ডাইনোসরেরও বহু আগে সমুদ্রে রাজত্ব করত হাঙর!!
ডাইনোসরদের কথা শুনলেই আমাদের কল্পনায় ভেসে ওঠে আদিম পৃথিবীর ছবি। অথচ সেই ডাইনোসরদের আবির্ভাবেরও বহু আগে সমুদ্রের গভীরে রাজত্ব করত আরও ভয়ংকর শিকারিরা—হাঙর। সাম্প্রতিক এক আবিষ্কারে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি বছর আগেও পৃথিবীর সমুদ্রে ঘুরে বেড়াত বিশাল আকৃতির হাঙরের মতো প্রাণী। আর সেই প্রমাণ মিলেছে একেবারে অপ্রত্যাশিত জায়গায়—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি প্রদেশের ম্যামথ গুহার গভীরে।
ম্যামথ গুহা পৃথিবীর দীর্ঘতম গুহা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৬৭৫ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই গুহার অনেক পথ এখনও মানুষের চোখে ধরা পড়েনি। বর্তমানে যা শুকনো ভূগর্ভস্থ গুহা, কার্বনিফেরাস যুগে—অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৩০ কোটি বছর আগে—এই অঞ্চল ছিল সম্পূর্ণ সমুদ্রের তলায়। শুধু ম্যামথ গুহাই নয়, সে সময় কেন্টাকি-সহ উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অংশই ছিল জলমগ্ন। সেই সমুদ্রগর্ভের গুহার মধ্যেই বিচরণ করত এই আদিম হাঙরেরা।
জীবাশ্মবিদদের হাতে ধরা পড়েছে হাঙরের মতো দেখতে দুটি বিলুপ্ত প্রজাতির প্রায় সম্পূর্ণ জীবাশ্ম। লম্বায় ১০ থেকে ১২ ফুট, তীক্ষ্ণ দাঁত আর শক্তিশালী দেহ—আজকের হোয়াইট টিপ হাঙরের সঙ্গে এদের গড়নের বেশ মিল রয়েছে। দাঁতের আকৃতি দেখে বিজ্ঞানীদের ধারণা, শিকারকে অনায়াসেই চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে পারত এরা।
গত কয়েক দশক ধরেই ম্যামথ গুহা থেকে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম মিলেছে। প্রাচীন প্রবাল থেকে শুরু করে নানা অজানা প্রাণীর চিহ্ন—সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭০টিরও বেশি সামুদ্রিক প্রজাতির অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে এই গুহায়। তবে সদ্য আবিষ্কৃত হাঙরের জীবাশ্মগুলি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, এগুলির বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লক্ষ বছর।
এই আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছেন ‘মেরিল্যান্ড-ন্যাশনাল ক্যাপিটাল পার্কস অ্যান্ড প্ল্যানিং কমিশন’-এর হাঙর বিশেষজ্ঞ জন-পল হডনেট এবং তাঁর সহকর্মীরা। গবেষকদের মতে, এই প্রাণীরাই আধুনিক হাঙরদের পূর্বসূরি। নতুন করে চিহ্নিত দুই প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে—ট্রোগ্লোক্ল্যাডোডাস ট্রিম্বলি এবং গ্লিকম্যানিয়াস কেয়ারফোরাম।
গবেষণার দিক থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল গ্লিকম্যানিয়াস কেয়ারফোরামের পরিচয়। এটি হেসলেরোডিডা গোত্রের হাঙর, আর এই গোত্র যে এত প্রাচীন কালে পৃথিবীতে ছিল, তা আগে জানা ছিল না। নতুন এই জীবাশ্ম আগের সব প্রমাণের চেয়ে প্রায় পাঁচ কোটি বছর পুরনো। অর্থাৎ, এটি হেসলেরোডিডা গোত্রের প্রাচীনতম পরিচিত নিদর্শন।
ট্রোগ্লোক্ল্যাডোডাস ট্রিম্বলির গড় দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় সাড়ে ১১ ফুট। দ্রুত আক্রমণের জন্য উপযোগী দেহ আর ধারালো দাঁত ছিল তার প্রধান অস্ত্র। অন্য দিকে, গ্লিকম্যানিয়াস কেয়ারফোরাম আরও বেশি আক্রমণাত্মক ছিল বলে মনে করছেন গবেষকেরা। কিছু নমুনা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, এই প্রজাতির কিছু হাঙর আকারে আরও বড়ও হতে পারত।
সাধারণত হাঙরের জীবাশ্ম পাওয়া অত্যন্ত বিরল। কারণ, হাঙরের কঙ্কাল মূলত তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি, যা সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু দাঁতই টিকে থাকে। কিন্তু ম্যামথ গুহায় পাওয়া জীবাশ্মগুলি প্রায় সম্পূর্ণ দেহের, এমনকি ত্বকের ছাপও স্পষ্ট। এই অসাধারণ সংরক্ষণই বিজ্ঞানীদের সামনে খুলে দিয়েছে পৃথিবীর এক অজানা, প্রাচীন সমুদ্রজগতের দরজা।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা