সমুদ্রে ‘চিরস্থায়ী’ তাপপ্রবাহের আশঙ্কা!
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব যে ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে, তা নতুন করে তুলে ধরল এক আন্তর্জাতিক গবেষণা। বিজ্ঞানীদের দাবি, বিশ্বের অন্তত ১৯টি আবদ্ধ সমুদ্রে ভবিষ্যতে প্রায় সারা বছর ধরেই তাপপ্রবাহ চলতে পারে। অর্থাৎ, যে সমুদ্র একসময় নির্দিষ্ট সময় পর ঠান্ডা হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরত, সেখানে আর সেই সুযোগই থাকবে না।
গবেষকদের মতে, ভূমধ্যসাগর, বাল্টিক সাগর, মেক্সিকো উপসাগর, লোহিত সাগরের মতো সমুদ্রগুলিতে এই বিপদ সবচেয়ে বেশি। এই জলভাগগুলি তুলনামূলক ছোট, অগভীর এবং চারদিক থেকে স্থলভাগে ঘেরা। ফলে অতিরিক্ত তাপ সহজে বেরোতে পারে না। প্রশান্ত বা আটলান্টিক মহাসাগরের মতো বিশাল জলরাশিতে তাপ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও, এই সমুদ্রগুলিতে তা আটকে যাচ্ছে।
জার্মানির লাইবনিজ় ইনস্টিটিউট ফর বাল্টিক সি রিসার্চ-এর সমুদ্রবিজ্ঞানী ম্যাথিয়াস গ্রোগার-এর নেতৃত্বে এই গবেষণা হয়েছে। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে Communications Earth and Environment-এ।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। কিন্তু ভবিষ্যতে কিছু সমুদ্রে বছরে ৩৩০ দিন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ চলতে পারে। অর্থাৎ, এটি আর সাময়িক আবহাওয়ার সমস্যা নয়, বরং নতুন স্থায়ী জলবায়ুগত বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই অতিরিক্ত তাপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রবাল, মাছ, শৈবাল থেকে শুরু করে অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। গবেষকদের আশঙ্কা, শতকের শেষে কিছু অঞ্চলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলের সমুদ্রগুলি সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। হাডসন উপসাগর, ব্যারেন্টস সাগর, কারা সাগর এবং ল্যাপটেভ সাগরে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার বিশ্ব গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আর্কটিক অঞ্চলে উষ্ণতা পৃথিবীর গড় বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় চার গুণ দ্রুত বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শিল্পদূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন। দীর্ঘদিন ধরে কলকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি তেল থেকে নির্গত দূষণ বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের ভারসাম্য নষ্ট করেছে। পরে কিছু দূষণ কমলেও, তার ফলে সূর্যের তাপ আরও সরাসরি সমুদ্রে পৌঁছতে শুরু করে, যা উষ্ণতা বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি-র লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও কিছু সমুদ্র তাপপ্রবাহের সীমা অতিক্রম করবেই।
তাই সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে দ্রুত দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু নীতিতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা