স্কুল-কলেজেই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ঘোষণা কেন্দ্রের!
এক সময় ছেলেমেয়েদের হাতে সারাক্ষণ মোবাইল দেখলে বাবা-মায়েরা বিরক্ত হতেন। কিন্তু অতিমারির সময়ে সেই ছবিটাই বদলে গিয়েছিল। অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল নোট, ভিডিও লেকচার—সব কিছুর জন্যই স্মার্টফোন বা ট্যাব হয়ে উঠেছিল পড়াশোনার অপরিহার্য সঙ্গী। সময় যত এগিয়েছে, ডিজিটাল দুনিয়ার প্রতি টান ততই বেড়েছে। সেই বাস্তবতাকেই মাথায় রেখে এ বার কেন্দ্রীয় বাজেটে বড়সড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।
রবিবার বাজেট পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দেশের ১৫ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫০০ কলেজে তৈরি হবে বিশেষ ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’। কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের ডিজিটাল দুনিয়ায় সৃজনশীল কাজের জন্য ছোট থেকেই প্রস্তুত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে জনপ্রিয় ইউটিউবার বা বাজারচলতি কন্টেন্ট নির্মাতাদের জন্য নয়—বরং একেবারে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দক্ষতা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
অর্থমন্ত্রী জানান, অ্যানিমেশন, ভিজ়্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং এবং কমিক্স—যা এক কথায় এভিজিসি (AVGC) সেক্টর নামে পরিচিত—আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উদ্যোগে এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির তত্ত্বাবধানে এই ল্যাবগুলি তৈরি হবে। এখানে শিক্ষার্থীরা কন্টেন্ট তৈরির প্রথাগত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ পাবে। ডিজিটাল মাধ্যমে গল্প বলা, ভিজ়্যুয়াল এফেক্ট তৈরি, গেমিং অ্যাপের নকশা কিংবা কমিক্স ডিজাইন—সব কিছুই শেখানো হবে হাতে-কলমে।
কেন্দ্রের ধারণা, এই প্রশিক্ষণ শুধু পড়াশোনায় নয়, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন দরজাও খুলে দেবে। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), এক্সআর (XR) এবং ইন্টারেক্টিভ মিডিয়ার মতো ক্ষেত্রগুলিতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়বে। সেই জায়গাতেই ছাত্রছাত্রীরা আগে থেকেই নিজেদের তৈরি করতে পারবে।
নির্মলা সীতারমণ জানান, ভারতের এভিজিসি শিল্প একটি দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষেত্র। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সেক্টরে প্রায় ২ লক্ষ পেশাদারের প্রয়োজন হবে। সেই লক্ষ্যে চলতি বাজেটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪,৫৫১.৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রসার ভারতীর জন্যও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি, এভিজিসি ক্ষেত্রে প্রতিভা বিকাশের জন্য আলাদা করে ২৫০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে গেম ডেভেলপার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (GDAI)। সংস্থার বোর্ড সদস্য মণীশ আগরওয়াল বলেন, “এটা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে সারা দেশে গেমিং, এভিজিসি-এক্সআর এবং ইন্টারেক্টিভ মিডিয়া শিল্পের বৃদ্ধি আরও দ্রুত হবে।”
সব মিলিয়ে, মোবাইল আর ডিজিটাল স্ক্রিনের সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা প্রজন্মের জন্য এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের পেশার মানচিত্রই বদলে দিতে পারে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা