পাশাপাশি দেব-স্বরূপে ফের জেগে উঠল টলিউডের কৌতূহল!
দেব-স্বরূপ সম্পর্ক কি সত্যিই আবার উষ্ণ হচ্ছে? স্ক্রিনিং কমিটির ভবিষ্যৎ কী? আর পুজোয় দেব-জিৎ কি ফের এক ফ্রেমে?—এই সব প্রশ্নই এখন টলিউডের অলিগলিতে ঘুরছে। শুক্রবার ইম্পা অফিসে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে দেব ও ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে পাশাপাশি বসে আলোচনা করতে দেখা যাওয়ার পর সেই কৌতূহল আরও বেড়েছে।
বৈঠকের আর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ ছিল অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নে দেবের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “ছেলেটাকে শান্তিতে বাঁচতে দিন। ওকে কাজ করতে দিন।” এই কথাতেই অনেকের ধারণা, অনির্বাণের টলিউডে প্রত্যাবর্তনের পথ কি তবে একটু হলেও খুলল?
তবে স্বরূপ বিশ্বাস এই বিষয়ে অনেক বেশি সংযত। তাঁর সাফ বক্তব্য, স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক অনির্বাণকে নিয়ে আলোচনার জায়গা নয়। তিনি বলেন, এই বিষয়ে জানতে হলে ফেডারেশনের অফিসে এসে কথা বলতে হবে। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে কোনও আশ্বাস বা ইঙ্গিত দিতে নারাজ তিনি।
এই বৈঠকের গুরুত্ব বোঝা যায় গত বছরের ঘটনাপ্রবাহ মনে করলে। বড়দিনে ছবিমুক্তির সময় দেবকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছিল—নিজের ছবির জন্য নাকি বাড়তি শো চাওয়া, অন্য ছবির হল ও শো পাওয়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা, এমনকি স্ক্রিনিং কমিটিকে সমর্থন না করার অভিযোগও। যদিও দেব সে সময় জানিয়েছিলেন, তিনি কমিটি থেকে সরে যাননি।
তার পরেই সমাজমাধ্যমে কুৎসিত আক্রমণ, প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবির রেটিং কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে টলিউডের প্রথম সারির তারকারা লালবাজারে অভিযোগ জানান। সেই অভিযানে দেবের অনুপস্থিতি আরও জল্পনা বাড়ায়। শোনা যাচ্ছিল, ফেডারেশন, স্ক্রিনিং কমিটি এবং তথাকথিত ‘বন্ধু’দের সঙ্গে দেবের দূরত্ব বেড়েছে।
এ দিনের বৈঠক সেই দূরত্ব কমাতে পারল কি না, প্রশ্ন উঠতেই দেবের উত্তর, “কোনও দূরত্ব তৈরি হয়নি। বাংলা ছবির উন্নতির জন্য আমরা একজোট হয়ে কী করতে পারি, সেটাই আলোচনা হয়েছে।” লালবাজার অভিযানে না যাওয়ার ব্যাখ্যায় তাঁর সংযোজন, “আমায় কি এ ভাবে লালবাজারে যাওয়া মানায়?”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, নিসপাল সিংহ রানে, রানা সরকার, শতদীপ সাহা, পঙ্কজ লাডিয়া, অরিজিৎ দত্ত প্রমুখ। বৈঠক নিয়ে স্বরূপ ও রানার সুর একই—আলোচনা ছিল ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতমুখী।
রানার রসিকতা কিন্তু মুহূর্তেই পরিস্থিতি হালকা করে দেয়, “দেব আর স্বরূপদা তো পাশাপাশি বসেই বৈঠক করলেন। তা হলে দূরত্ব কোথায়?” তাঁর কথাতেই যেন লুকিয়ে রইল সব প্রশ্নের উত্তর।
জানানো হয়েছে, স্ক্রিনিং কমিটি যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। কাজও চলবে আগের মতোই। ১৯ জানুয়ারি বাংলা ছবির ক্যালেন্ডার প্রকাশের কথা থাকলেও, তা নিয়ে এ দিন কোনও আলোচনা হয়নি। পুজোয় দেব-জিৎ একসঙ্গে ছবি করবেন কি না, সেই প্রশ্নও রয়ে গেল অমীমাংসিত।
সব মিলিয়ে, বৈঠক অন্তত এটুকু বার্তা দিল—দূরত্বের চর্চার মধ্যেও সংলাপ এখনও বন্ধ হয়নি। আর সেই সংলাপই হয়তো টলিউডের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় আশা।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা