এক মাসের দূরত্ব, এক লাফে ঘনিষ্ঠতা: ‘প্যাক্স সিলিকা’য় ভারতের প্রবেশে কী বদলাবে দিল্লির ভাগ্য?

‘প্যাক্স সিলিকা’য় ভারতের প্রবেশে কী বদলাবে দিল্লির ভাগ্য? মাত্র এক মাস আগেও যে জোটে ভারতের নাম ছিল না, সেই ‘প্যাক্স সিলিকা’য় এবার নয়াদিল্লিকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে আমেরিকা। হঠাৎ…

January 16, 2026
1 min read

‘প্যাক্স সিলিকা’য় ভারতের প্রবেশে কী বদলাবে দিল্লির ভাগ্য?

মাত্র এক মাস আগেও যে জোটে ভারতের নাম ছিল না, সেই ‘প্যাক্স সিলিকা’য় এবার নয়াদিল্লিকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে আমেরিকা। হঠাৎ এই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ানো শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ভারতের জন্য হতে পারে এক বড় কৌশলগত জয়—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

‘প্যাক্স সিলিকা’ মূলত তৈরি হয়েছে কৃত্রিম মেধা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, চিপ এবং বিরল খনিজের মতো অত্যাধুনিক ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলির নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে। এই সব ক্ষেত্রেই ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা—চিনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।

আজকের দিনে একটি স্মার্টফোন থেকে বৈদ্যুতিন গাড়ি—সব কিছুর প্রাণ হল চিপ। আর সেই চিপ তৈরিতে দরকার বিরল খনিজ, যার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ চিনের হাতে। গত আর্থিক বছরে ভারত যে বিরল খনিজ আমদানি করেছে, তার প্রায় ৯৩ শতাংশই এসেছে বেজিং থেকে। ২০২৫ সালে চিন যখন হঠাৎ ছ’মাসের জন্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, তখন ভারতের ইভি শিল্প কার্যত থমকে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নয়াদিল্লি বুঝে গেছে—এই নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক।

অথচ ভারতের মাটির নিচেই লুকিয়ে রয়েছে প্রায় ৮৫ লক্ষ টনের বেশি বিরল ধাতু। সমস্যা একটাই—প্রযুক্তি। উত্তোলন ও পরিশোধনের পরিকাঠামোর অভাবে বছরে মাত্র কয়েক হাজার টনই ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব হচ্ছে। এখানেই ‘প্যাক্স সিলিকা’ ভারতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। জাপান, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, অস্ট্রেলিয়ার মতো নির্ভরযোগ্য দেশ থেকে কাঁচামাল এবং পশ্চিমি বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে ভারতের জন্য খুলে যেতে পারে এক নতুন দরজা।

এই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন’। ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে চিন-নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। ‘প্যাক্স সিলিকা’ সেই লক্ষ্যে গতি বাড়াবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

শুধু খনিজ নয়, AI এবং আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এই জোট ভারতের গুরুত্ব বাড়াবে। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য স্পষ্ট—২১ শতকের শক্তি নির্ধারিত হবে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম মেধার মাধ্যমে। আর সেই দৌড়ে ভারতকে বাদ দিয়ে এগোনো কার্যত অসম্ভব।

ডিসেম্বরে জোট ঘোষণার সময় ভারতকে বাইরে রাখায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু জানুয়ারিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের ঘোষণায় স্পষ্ট—আগামী মাসেই ভারত পূর্ণ সদস্য হতে চলেছে। কাতারের অন্তর্ভুক্তির সময়ও আমেরিকা জানিয়েছে, ‘প্যাক্স’ মানে শান্তি, স্থিতি ও সমৃদ্ধি—আর ‘সিলিকা’ মানে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির ভিত্তি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এক মাসের মান-অভিমান পেরিয়ে ভারতকে ফের কাছে টেনে নিল আমেরিকা। এখন দেখার, এই নতুন বন্ধুত্ব কৃত্রিম মেধা ও বিরল খনিজের দুনিয়ায় ভারতকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কারণ, ভবিষ্যতের লড়াই আর বন্দুক বা ট্যাঙ্কে নয়—লড়াই হবে চিপ, ডেটা আর প্রযুক্তির ময়দানে।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *