ভোটার তালিকায় ভুল থাকলে এখনও সুযোগ!
ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে যাঁরা চিন্তায় ছিলেন, তাঁদের জন্য স্বস্তির খবর। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় যদি কোনও ভুল, অসম্পূর্ণতা বা আপত্তি থাকে, তা সংশোধনের জন্য আরও চার দিন সময় দিল নির্বাচন কমিশন। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) পর্যন্ত সংশোধনের আবেদন জানানো যাবে।
আগে এই আবেদনের শেষ দিন ছিল ১৫ জানুয়ারি। তবে বিভিন্ন মহল থেকে সময় বাড়ানোর দাবি ওঠায় কমিশন সেই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি গোয়া, লক্ষদ্বীপ, রাজস্থান ও পুদুচেরিতেও একই ভাবে এই বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলির তরফে মোট আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। তৃণমূল তিন জন ভোটারের নাম ফের তালিকায় তোলার আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, ওই তিন জনের নাম খসড়া তালিকা থেকে ভুল করে বাদ পড়ে গিয়েছে।
এ ছাড়া সিপিএম দু’টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ও বিজেপি একটি করে এবং বহুজন সমাজ পার্টির তরফে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, কোনও দলই কারও নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেনি। সব অভিযোগই মূলত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর কমিশন এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়ে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। তবে কমিশন আগেই জানিয়েছিল, এই তালিকা চূড়ান্ত নয় এবং তাতে ভুল থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই আপত্তি ও সংশোধনের জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।
এ বার সেই সময়সীমা আরও চার দিন বাড়ানো হল, যাতে কোনও যোগ্য ভোটার শুধুমাত্র প্রশাসনিক ভুলের কারণে তালিকার বাইরে না থেকে যান।
কমিশনের বক্তব্য, সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা হবে, এবং তার পরেই প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।
ইতিমধ্যে পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) চিঠি পাঠিয়ে এই সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, বানানে ভুল রয়েছে, ঠিকানা বা বয়সে গরমিল আছে— তাঁদের জন্য এখনও সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে বা অনলাইনের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন জানানো যাবে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।
ভোটাধিকার যে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, তা আবারও মনে করিয়ে দিল এই সময়সীমা বৃদ্ধি। শেষ মুহূর্তে হলেও নিজের নাম ও তথ্য একবার যাচাই করে নেওয়াই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা