পশ্চিম এশিয়ায় আগুনের আঁচ: জয়শঙ্করকে ফোন আরাঘচির, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কী আলোচনা হল দুই বিদেশমন্ত্রীর?

পশ্চিম এশিয়ায় আগুনের আঁচ! পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়তেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানে চলতে থাকা গণবিক্ষোভ, ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা এবং…

January 15, 2026
1 min read

পশ্চিম এশিয়ায় আগুনের আঁচ!

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়তেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানে চলতে থাকা গণবিক্ষোভ, ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—এই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে কতটা সংবেদনশীল, তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। এমন আবহেই দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর এই ফোনালাপ কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। বুধবার এক্সে তিনি লেখেন,
“ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। ইরান এবং আশপাশের অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

এই সংক্ষিপ্ত বার্তার মধ্যেই স্পষ্ট, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা নিয়ে নয়াদিল্লি যে গভীর ভাবে নজর রাখছে, তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

ইরানে বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের মুখ এখন ঘুরে গিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের দিকে। ইরানের ৩১টি প্রদেশেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় তিন হাজার ছুঁয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতও সতর্ক। গত ৫ জানুয়ারি প্রথম বার ইরান সংক্রান্ত ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল বিদেশ মন্ত্রক। ন’দিনের মাথায় বুধবার ফের সেই সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে ইরানে থাকা ভারতীয়দের জন্যও কড়া নির্দেশ এসেছে। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পাঁচ দফা পরামর্শ জারি করে বলেছে, যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ উপায়ে ইরান ছেড়ে বেরিয়ে আসতে। পাশাপাশি, সব সময় পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার এবং প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য। তিনি প্রকাশ্যে ইরান সরকারের দমননীতির সমালোচনা করেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আপাতত তেহরানের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসতে রাজি নয় তাঁর প্রশাসন। বরং আন্দোলনকারীদের সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করার কথাও বলেছেন তিনি। এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে—ইরানে কি ফের সামরিক অভিযানের পথে হাঁটতে পারে আমেরিকা?

এই প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর-আরাঘচি ফোনালাপ শুধু সৌজন্যমূলক আলোচনা নয়, বরং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় যে কোনও অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে—আর তার ঢেউ এসে লাগে ভারতের দিকেও।

সব মিলিয়ে, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ যেমন স্পষ্ট, তেমনই কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টাও যে চলছে, জয়শঙ্কর-আরাঘচি কথোপকথন তারই এক বাস্তব উদাহরণ।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *