লড়াইয়ের মাঝেও হাসি— হাসপাতালে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’, পাশে দাঁড়াতে ছুটে গেলেন দেব

হাসপাতালে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ হঠাৎ অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন অনেকেই। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন জলপাইগুড়ির করিমুল হক— যাঁকে দেশ চেনে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ নামে। মানুষের বিপদে নিজের মোটরবাইককে অ্যাম্বুল্যান্সে বদলে…

January 14, 2026
1 min read

হাসপাতালে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’

হঠাৎ অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন অনেকেই। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন জলপাইগুড়ির করিমুল হক— যাঁকে দেশ চেনে ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’ নামে। মানুষের বিপদে নিজের মোটরবাইককে অ্যাম্বুল্যান্সে বদলে দেওয়া সেই নিঃস্বার্থ মানুষটি এখন নিজেই হাসপাতালের বিছানায়। তবে স্বস্তির খবর, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। কলকাতার এক প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর শরীরে পেসমেকার বসানো হয়েছে এবং চিকিৎসকদের কথায়, করিমুল ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে।

খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে যান অভিনেতা-সাংসদ দেব। করিমুলের সঙ্গে দেখা করে তাঁর পাশে কিছুটা সময় কাটান। পরে সেই মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়ে দেব লেখেন, “দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো করিমদা। তোমার জন্য প্রার্থনা জানাচ্ছি। তুমিই তো আমাদের বাস্তবের অ্যাম্বুল্যান্স দাদা।” ওই পোস্টে ধরা পড়ে একান্ত মানবিক মুহূর্ত— পর্দার নায়ক আর বাস্তবের নায়ক, দু’জনের নীরব বোঝাপড়া।

দেবের আপ্তসহায়ক জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর করিমুল এখন ভাল আছেন। উঠে বসার অনুমতিও পেয়েছেন। সব ঠিক থাকলে শীঘ্রই হাসপাতাল থেকে ছুটি মিলবে। চিকিৎসা দেবের তত্ত্বাবধানে হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নও উঠেছিল। তবে পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনা হাসপাতাল ও পরিবারের তত্ত্বাবধানেই হয়েছে।

করিমুল হকের গল্প নতুন নয়, তবু প্রতিবারই তা নাড়া দেয়। অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে মাকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পারার যন্ত্রণা তাঁকে বদলে দিয়েছিল। সেই শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল এক অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা— আর কাউকে যেন এমন অসহায় অবস্থায় পড়তে না হয়। নিজের বাইকেই অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে, বিনা পারিশ্রমিকে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে শুরু করেন তিনি। প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। পরে পদ্ম সম্মানেও ভূষিত হন এই নিঃস্বার্থ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে।

এই জীবনকথাই বড়পর্দায় তুলে ধরতে চলেছেন দেব। অনেক দিন ধরেই এই ছবির পরিকল্পনা ছিল তাঁর। নানা হাত ঘুরে অবশেষে চরিত্রটির স্বত্ব ফিরে এসেছে দেবের হাতেই। ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ি গিয়ে করিমুলের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। শুটিং শুরু হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারি থেকে।

আজ হাসপাতালে শুয়ে থাকা মানুষটি শুধু একজন রোগী নন— তিনি আশা, সাহস আর মানবিকতার প্রতীক। আর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দেব যেন মনে করিয়ে দিলেন, নায়কত্ব কেবল পর্দায় নয়— সহমর্মিতার মুহূর্তেও তার প্রকাশ ঘটে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *