ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের পর ক্রিকেটকে বিদায় !
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের ক্রিকেটের মুখ ছিলেন তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দুরন্ত উইকেটকিপিং আর নিঃশর্ত নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে অ্যালিসা হিলি মানেই আলাদা এক অধ্যায়। সেই অধ্যায়েরই শেষ পাতা লিখতে চলেছেন অজি অধিনায়ক। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ় শেষ হলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন হিলি।
এই সিদ্ধান্ত যে হঠাৎ নয়, তা নিজেই জানালেন তিনি। গত কয়েক মাস ধরে একাধিক চোটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। শারীরিক যন্ত্রণা ছাপিয়ে মানসিক ক্লান্তিই নাকি সবচেয়ে বেশি গ্রাস করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার চাপ, প্রত্যাশার বোঝা—সব মিলিয়ে এক সময় মনে হয়েছে, এবার থামার সময় এসেছে।
সম্প্রতি ‘উইলোটক ক্রিকেট পডকাস্ট’-এ নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন হিলি। আবেগ চাপা রেখেই বলেছিলেন, সিদ্ধান্তটা নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু জীবনের কোনও না কোনও মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ়কে তিনি বেছে নিয়েছেন বিদায়ের মঞ্চ হিসেবে—কারণ এই সিরিজ় অস্ট্রেলিয়ার কাছে সব সময়ই বিশেষ। ঘরের মাঠে, সতীর্থ আর পরিবারের সামনে শেষবার দেশের জার্সি গায়ে তোলার সুযোগকে তিনি সৌভাগ্য হিসেবেই দেখছেন।
হিলি অকপটে স্বীকার করেছেন, ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই অবসর নিয়ে ভাবনাটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি চাইছিলেন, বড় কোনও সিরিজ় খেলে বিদায় নিতে। ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শেষবার মাঠে নামাটা তাই তাঁর কাছে অর্থপূর্ণ।
সব কথার মাঝেও হালকা রসিকতা করতে ভোলেননি অজি তারকা। হাসতে হাসতে বলেছেন, স্বামী মিচেল স্টার্ক নাকি সম্প্রতি গল্ফে ‘হোল-ইন-ওয়ান’ করেছেন। তাই তাঁকে হারাতে হলে এখন এই খেলায় একটু বেশি সময় দিতেই হবে!
পরিসংখ্যানের দিক থেকেও হিলির কেরিয়ার ঈর্ষণীয়। দেশের হয়ে শতাধিক একদিনের ম্যাচ, অজস্র রান, অসংখ্য ক্যাচ আর স্টাম্পিং—সব মিলিয়ে তিনি শুধু একজন ক্রিকেটার নন, অস্ট্রেলীয় নারী ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অংশ। আট বার বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তাঁর অবদান অমলিন থাকবে।
ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। তিনটি টি-টোয়েন্টি, তিনটি একদিনের ম্যাচ ও একটি টেস্ট—এই সিরিজ়ই হবে অ্যালিসা হিলির শেষ আন্তর্জাতিক অধ্যায়। ক্রিকেট ছাড়লেও তাঁর সাহসী মানসিকতা, লড়াকু মনোভাব আর অনুপ্রেরণার গল্প থেকে যাবে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি