সংঘাত, শুল্ক আর আগুনের রাজনীতি!
২০২৫ সাল বিদায় নেওয়ার আগে বিশ্বকে দিয়ে গেল অস্থিরতা, সংঘাত আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ছায়া। বছরজুড়ে কখনও যুদ্ধবিমান আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন, কখনও বাণিজ্যযুদ্ধের শুল্কবাণ, আবার কোথাও গণআন্দোলন আর রাজনৈতিক হিংসা— সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই বছর ছিল প্রবল উত্তাপের। বর্ষশেষে দাঁড়িয়ে ফিরে তাকালে স্পষ্ট, ২০২৫ বিশ্ব ইতিহাসে মনে রাখার মতো অনেক দাগ রেখে গেছে।
বছরের শুরুতেই নজর কাড়েন Donald Trump। জানুয়ারিতে দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েই তিনি একের পর এক নির্বাহী নির্দেশে স্বাক্ষর করেন। ক্ষমতায় ফিরেই তাঁর আগ্রাসী বাণিজ্যনীতি ফের বিশ্ব অর্থনীতিতে ঢেউ তোলে। এপ্রিল মাসে ঘোষিত ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতিতে ভারত, চিন-সহ বহু দেশের পণ্যে বাড়তি কর বসে। এমনকি জনমানবহীন দ্বীপেও শুল্ক বসিয়ে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে বিদ্রুপের শিকার হন। এই নীতির জেরে আমেরিকা-চিন বাণিজ্যযুদ্ধ ফের চরমে ওঠে।
ট্রাম্পের আর এক বড় ছায়া পড়ে যুদ্ধনীতিতে। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে গিয়ে হোয়াইট হাউসে Volodymyr Zelenskyy-র সঙ্গে প্রকাশ্য তর্ক বিশ্বকে চমকে দেয়। সামরিক সাহায্য কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় রাজনীতিতেও অস্বস্তি বাড়ায়। অন্য দিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত ১২ দিনের যুদ্ধে রূপ নেয়, যেখানে শেষে আমেরিকার সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
দক্ষিণ এশিয়াও ছিল উত্তপ্ত। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনার প্রত্যাঘাত, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার এবং শেষে সংঘর্ষবিরতি— সব মিলিয়ে উপমহাদেশ ফের যুদ্ধের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল। এই সংঘর্ষ থামানো নিয়ে ট্রাম্প নিজেকে মধ্যস্থতাকারী দাবি করলেও নয়াদিল্লি তা স্পষ্ট ভাবে খারিজ করে।
বাংলাদেশেও বছরটি ছিল রক্তাক্ত। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina ভার্চুয়াল ভাষণের পর ঢাকায় ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। বছরের শেষে জুলাই আন্দোলনের মুখ Sharif Osman Hadi-র হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে নতুন করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করে।
বিশ্ব রাজনীতির আর এক আলোচিত অধ্যায় ছিল ট্রাম্প ও ধনকুবের Elon Musk-এর সংঘাত। প্রশাসনের ‘ডজ’ দফতর থেকে মাস্কের ইস্তফা, প্রকাশ্য বাক্যুদ্ধ, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা— সব মিলিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও ছিল নাটকীয়।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও অশান্তি কম ছিল না। চিন-তাইওয়ান প্রশ্নে জাপানের কড়া অবস্থান, দক্ষিণ চিন সাগরে সামরিক তৎপরতা এবং কোরীয় উপদ্বীপের আশপাশে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ যেন একের পর এক সঙ্কটের ক্যালেন্ডার। যুদ্ধ থামার আগেই নতুন সংঘাতের আশঙ্কা, অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আর রাজনীতিতে বিভাজন— এই বছর বিশ্বকে শিখিয়ে দিল, শান্তি এখনও কতটা ভঙ্গুর।