সুপ্রিম কোর্টের রায় যদি বিপক্ষে যায়, শুল্কের অর্ধেক ফেরত দিতে বাধ্য হবে আমেরিকা – স্বীকারোক্তি মার্কিন অর্থসচিবের

স্বীকারোক্তি মার্কিন অর্থসচিবের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অঙ্গনে আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি তাঁদের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে বহু দেশের কাছ…

September 8, 2025
0 min read

স্বীকারোক্তি মার্কিন অর্থসচিবের

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অঙ্গনে আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি তাঁদের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে বহু দেশের কাছ থেকে আদায় করা শুল্কের অন্তত অর্ধেক ফেরত দিতে হবে। এতে আমেরিকার অর্থনীতি প্রবল ধাক্কা খাবে, সে কথাও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।

নিউ ইয়র্কের এক আদালত কিছুদিন আগে রায় দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভাবে বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক আরোপ করেছেন, তা বেআইনি। যদিও আদালত সরাসরি শুল্ক আদায় বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি, সময়সীমা দিয়েছে অক্টোবর পর্যন্ত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। এখন পুরো প্রশাসন তাকিয়ে আছে সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে।

রবিবার এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অর্থসচিব বেসেন্ট বলেন, “যদি সুপ্রিম কোর্ট আমাদের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে সত্যিই সমস্যা হবে। অর্ধেক শুল্ক ফেরত দিতে হবে। এতে অর্থনীতির প্রচণ্ড ক্ষতি হবে। কিন্তু আদালতের নির্দেশ মানতে তো হবেই।”

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিকল্প কী হতে পারে—সেই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্য আইনগত পথে শুল্ক আরোপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যদিও এতদিন ধরে ট্রাম্প যে ভাবে একতরফাভাবে শুল্ক চাপিয়ে বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলিকে চাপে রেখেছিলেন, আদালতের বিপরীত রায় এলে আর সে ক্ষমতা থাকবে না।

এর আগে ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের ডিরেক্টর কেভিন হ্যাসেটও জানিয়েছিলেন, যদি সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে যায়, তবে আমেরিকায় অন্য সংস্থাগুলি রয়েছে যারা শুল্ক ধার্য করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট তাঁদের মাধ্যমে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিতে পারবেন। তবে সেটি জটিল ও সীমিত ক্ষমতার মধ্যে আটকে যাবে।

ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট। তাঁর যুক্তি ছিল, বাণিজ্যে বিপুল ঘাটতির কারণে আমেরিকার অর্থনীতি জরুরি পরিস্থিতিতে পড়েছে, আর তা থেকে বেরোতেই পাল্টা শুল্ক জরুরি। কিন্তু নিম্ন আদালত এই ব্যাখ্যা মানেনি, সিদ্ধান্তটিকে বেআইনি বলেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—সুপ্রিম কোর্ট যদি নিম্ন আদালতের অবস্থান বহাল রাখে, তবে মার্কিন প্রশাসন কীভাবে সামলাবে এই সংকট? শুল্ক ফেরত দেওয়া মানে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বড়সড় ধাক্কা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ট্রাম্পের প্রভাব কমে যাবে।

ফলে আপাতত সব নজর সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিকে। সেই রায় যদি ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *