বড়দিনের আনন্দে যানজট যেন বাধা না হয়!
বড়দিন মানেই আলো-রোশনাই, গান, খাবার আর মানুষের ঢল। প্রতি বছর এই সময় কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকা যেন উৎসবের শহরে পরিণত হয়। হাজার হাজার মানুষ রাতভর ভিড় করেন সেখানে। সেই ভিড় যাতে আনন্দের বদলে অস্বস্তি না ডেকে আনে, সে কথা মাথায় রেখেই এ বছর আগেভাগে বিশেষ ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘোষণা করল কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার বর্মার তরফে জানানো হয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টে থেকে ২৫ ডিসেম্বর ভোর ৪টে পর্যন্ত পার্ক স্ট্রিট এবং সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচলে কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকবে। মূল উদ্দেশ্য— ভিড় সামলে মানুষকে নিরাপদে উৎসব উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়া।
এই সময় পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিশেষ করে এজেসি বসু রোড ধরে উত্তরমুখী, স্ট্র্যান্ড রোড ধরে পূর্বমুখী এবং ধর্মতলা হয়ে দক্ষিণমুখী গাড়িগুলিকে প্রয়োজনে অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বুঝে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে থেকেও ফের এই নিয়ন্ত্রণ চালু হতে পারে, কতক্ষণ চলবে তা ঠিক করবেন ডিসি (ট্রাফিক)।
ট্রাফিক মসৃণ রাখতে একাধিক রাস্তায় একমুখী যান চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেক্সপিয়র সরণিতে চলবে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী গাড়ি। হো চি মিন সরণি থাকবে পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী একমুখী। মিডলটন স্ট্রিটে (ক্যামাক স্ট্রিট থেকে জওহরলাল নেহরু রোড অংশে) চলবে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যান। লিটল রাসেল স্ট্রিটে গাড়ি চলবে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে। একই সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটে পার্ক স্ট্রিট ও এজেসি বসু রোডের মাঝে উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী একমুখী ব্যবস্থা থাকবে।
কিছু জায়গায় কড়া নিষেধাজ্ঞাও থাকছে। রয়েড স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ক্রসিং থেকে পার্ক স্ট্রিটের দিকে গাড়ি ঢুকতে পারবে না। পার্ক স্ট্রিট–রাসেল স্ট্রিট ক্রসিং থেকে রাসেল স্ট্রিটে ডানদিকে মোড় নেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভিড় বাড়লে যে কোনও সময়ে ক্যাথিড্রাল রোড সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার বিশেষ পরিস্থিতিতে শেক্সপিয়র সরণি, ক্যামাক স্ট্রিট, কিড স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটেও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ জারি হতে পারে।
গাড়ি দাঁড় করানো নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট, মিডলটন স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিটল রাসেল স্ট্রিট, কিড স্ট্রিট, রাসেল স্ট্রিট, রয়েড স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড এবং উড স্ট্রিট— এই সব জায়গায় ‘নো পার্কিং’ জোন কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে ভারতীয় জাদুঘর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, নিউ মার্কেট, আলিপুর চিড়িয়াখানা, কালীঘাট-সহ একাধিক দর্শনীয় এলাকাতেও গাড়ি রাখার অনুমতি নাও মিলতে পারে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট জুড়ে মোতায়েন থাকবেন অতিরিক্ত ১৫০০ পুলিশকর্মী। থাকবেন ডিসি, এসি, ইন্সপেক্টর র্যাঙ্কের আধিকারিকেরা, সাদা পোশাকের পুলিশ, মহিলা পুলিশ ও এসবি। বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, থাকবে ড্রোন নজরদারি, কুইক রেসপন্স টিম ও অ্যাম্বুল্যান্স।
হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও ভিড় এড়াতে একমুখী ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পথচারীরা এক দিক দিয়ে পার্ক স্ট্রিটে ঢুকে অ্যালেন পার্ক পর্যন্ত যাবেন এবং সেখান থেকে অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন।
সাম্প্রতিক বড় জমায়েতের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এ বার আরও বেশি তৎপর পুলিশ। প্রশাসনের আশা, এই ব্যবস্থার ফলে বড়দিনের রাতে আনন্দ থাকবে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা নয়।