বড়দিনের রঙে রঙিন পার্ক স্ট্রিট: আলো-উৎসবের ভিড়ে মধ্যরাতের প্রার্থনায় মুখ্যমন্ত্রী

বড়দিনের রঙে রঙিন পার্ক স্ট্রিট! লাল জামা, মাথায় সান্টা টুপি, চোখে ঝিকমিক আলোর চশমা— বড়দিনের আগের রাতে পার্ক স্ট্রিট যেন রূপকথার শহর। যে দিকেই তাকানো যায়, আলোর ঝলকানি আর হাসিখুশি…

December 25, 2025
0 min read

বড়দিনের রঙে রঙিন পার্ক স্ট্রিট!

লাল জামা, মাথায় সান্টা টুপি, চোখে ঝিকমিক আলোর চশমা— বড়দিনের আগের রাতে পার্ক স্ট্রিট যেন রূপকথার শহর। যে দিকেই তাকানো যায়, আলোর ঝলকানি আর হাসিখুশি মুখের ভিড়। বুধবার সন্ধ্যা নামতেই ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছিল জনসমাগম। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় পরিণত হয় উৎসবের জোয়ারে। এই আনন্দের শরিক হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী **মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়**ও।

বুধবার রাত ন’টার কিছু আগে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন কলকাতার ক্যাথিড্রাল অফ দ্য মোস্ট হলি রোজারিতে। বড়দিনের আগের রাতের মধ্যরাতের প্রার্থনায় অংশ নেন তিনি। প্রতি বছরই এই বিশেষ দিনে ক্যাথিড্রালে উপস্থিত থাকেন মুখ্যমন্ত্রী, এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা এবং তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।

প্রার্থনার পর মুখ্যমন্ত্রী নিজের সমাজমাধ্যমে কিছু ছবি ভাগ করে নেন। সেখানে তিনি লেখেন, বড়দিন একতা, শান্তি ও সহানুভূতির বার্তা বহন করে— যা সব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে। নতুন বছরের প্রাক্কালে সকলের জন্য দয়া, ক্ষমা আর মানবিকতার বার্তাও তুলে ধরেন তিনি।

এ দিকে, পার্ক স্ট্রিটে উৎসবের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কলকাতা তো বটেই, আশপাশের শহর, মফস্‌সল এমনকি ভিন্‌রাজ্য থেকেও মানুষ এসেছেন আলোর সাজ দেখতে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ আবার দূর থেকে আসা অতিথিদের নিয়ে হাঁটছেন আলোঝলমলে রাস্তায়। আট থেকে আশি— সবার চোখেমুখেই আনন্দের ঝিলিক।

যাদবপুর, নিউ টাউন, সল্টলেক, বারাসত— নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষজন রাস্তার ধারে হাঁটতে হাঁটতে ছবি তুলছেন, আড্ডা দিচ্ছেন, নিজস্বীতে ভরিয়ে দিচ্ছেন স্মৃতির অ্যালবাম। পথচলতি গাড়ি থেকেও অনেকে মোবাইল বের করে আলোর ছবি তুলছেন। তবে যানজট এড়াতে পুলিশ কড়া নজর রেখেছে— রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভিড় সামাল দিতে পার্ক স্ট্রিটের বড় অংশ ব্যারিকেড করে রাখা হয়েছে। ফুটপাথ ও রাস্তার নির্দিষ্ট অংশ পথচারীদের জন্য আলাদা করা হয়েছে। তবু ভিড়ের চাপে অনেক জায়গায় ঠেলাঠেলি লেগেছে। পরিস্থিতি বুঝে মাঝেমধ্যে রাস্তা বন্ধও রাখতে হয়েছে। যেমন, রাত সাড়ে আটটার দিকে পার্ক স্ট্রিট থেকে মল্লিকবাজারমুখী রাস্তা সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়।

যাঁরা বাড়ি থেকে সান্টা টুপি বা ঝলমলে চশমা আনতে ভুলে গিয়েছেন, তাঁদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ফুটপাথ জুড়ে বসেছে বিক্রেতাদের রমরমা বাজার— সান্টা টুপি, মাথার ব্যান্ড, রঙিন আলোর চশমা মুহূর্তে বিক্রি হচ্ছে।

উৎসব মানেই খাবার— এই নিয়মে পার্ক স্ট্রিটও ব্যতিক্রম নয়। নামী রেস্তরাঁগুলিতে টেবিল পেতে অপেক্ষা দীর্ঘ। তাই অনেকেই ভিড় করেছেন জনপ্রিয় রোলের দোকানগুলিতে। সন্ধ্যার পর থেকে সেখানকার জটলাই ছিল আলাদা আকর্ষণ।

ভিড় ও যান চলাচল সামলাতে মোতায়েন রয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী। নির্দিষ্ট কিছু জায়গা— পার্ক স্ট্রিট মোড়, স্টিফেন কোর্ট, অ্যালেন পার্ক— দিয়েই রাস্তা পারাপার করতে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ পরামর্শ দিচ্ছে, বাস ধরতে হলে ক্যামাক স্ট্রিটের দিকেই এগোতে।

সব মিলিয়ে, বড়দিনের আগের রাতে পার্ক স্ট্রিট শুধু আলোয় নয়— মানুষ, প্রার্থনা আর আনন্দে ভরে উঠেছিল।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *