উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক!
শিল্পপতি সঞ্জয় কপূরের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর বিপুল সম্পত্তি— প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা— কে পাবেন, তা নিয়ে পরিবারে টানাপড়েন থামছেই না। এর মাঝেই ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সঞ্জয়ের বোন মন্দিরা। তাঁর অভিযোগ শুধু সম্পত্তি ভাগাভাগি ঘিরে নয়, বরং পরিবারের ভিতরের আর্থিক বৈষম্য নিয়েও।
এক সাক্ষাৎকারে মন্দিরা দাবি করেছেন, সঞ্জয়ের মৃত্যুর পর তাঁদের মায়ের মাসিক আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। অথচ একই সময়ে সঞ্জয়ের তৃতীয় স্ত্রী প্রিয়া কপূর নাকি সংস্থা থেকে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা বেতন নিচ্ছেন। এই বৈপরীত্যই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্দিরা।
মন্দিরার কথায়, “আমার বাবা যখন বেঁচে ছিলেন, তখন মা সংস্থা থেকে অনেক বেশি বেতন পেতেন। দাদা জীবিত থাকাকালীনও মা মাসে ২১ লক্ষ টাকা পেতেন। কর কেটে হাতে আসত প্রায় ১৩ লক্ষ।” কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে সেই বেতন কমে দাঁড়িয়েছে ১২ লক্ষ টাকায়। “যিনি এই কোম্পানির গোড়াপত্তন করেছেন, যাঁর অবদান সবথেকে বেশি— তিনি আজ এত কম পাচ্ছেন,” আক্ষেপ মন্দিরার।
এর পাশাপাশি আরও বড় অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মন্দিরার দাবি, প্রিয়া কপূর প্রতি মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা বেতন নিচ্ছেন সংস্থা থেকে। নাম না করেই প্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ভাবুন তো, পরিবারের বাইরের একজন পাচ্ছেন মাসে ৫ কোটি টাকা, আর যিনি এই সাম্রাজ্যের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তিনি পাচ্ছেন মাত্র ১২ লক্ষ! এটা কি ন্যায্য?”
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রিয়া কপূর এই অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেননি।
উল্লেখ্য, সঞ্জয়ের মৃত্যুকে ঘিরেও মন্দিরা আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং এই বিষয়টি যথাযথ ভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেই বক্তব্য নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।
পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা যে নতুন নয়, সেটাও মন্দিরার কথাতেই স্পষ্ট। ২০১৭ সালে সঞ্জয় ও প্রিয়ার বিয়ে হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মন্দিরা ও তাঁদের আর এক বোন। সেই সময় থেকেই ননদের সঙ্গে প্রিয়ার দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ প্রসঙ্গে করিশ্মা কপূরের কথাও উঠে এসেছে মন্দিরার বক্তব্যে। সঞ্জয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী করিশ্মার সঙ্গে এক সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল মন্দিরার। আজও সেই সময়ের কথা মনে করে তাঁর আফসোস রয়ে গিয়েছে। মন্দিরা বলেন, “করিশ্মা ছিল আমার খুব কাছের বন্ধু। ওঁর জীবনের কঠিন সময়ে আমার পাশে থাকা উচিত ছিল। তখন আমরা আর কথা বলতাম না— হয়তো ওঁর আমার উপর রাগ হয়েছিল। যদিও সেটা একেবারেই স্বাভাবিক।”
সব মিলিয়ে, সঞ্জয় কপূরের মৃত্যুর পর শুধু আইনি লড়াই নয়, আবেগ, অভিমান আর অভিযোগে ভরা পারিবারিক গল্পও ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। সম্পত্তির ভাগ কী ভাবে মিটবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে একের পর এক মন্তব্যে পরিষ্কার— এই অধ্যায় শেষ হতে এখনও অনেকটা পথ বাকি।