‘ধুরন্ধর’ সেটে অক্ষয়ের অভিনয় ত্যাগের গল্প!
পর্দায় যা দেখা যায়, তার আড়ালে যে কতখানি পরিশ্রম আর ত্যাগ লুকিয়ে থাকে, তার প্রমাণ বারবার দেন অক্ষয় খন্না। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ধুরন্ধর’ ঘিরে এখন ভারত ও পাকিস্তান—দু’দেশেই চর্চা তুঙ্গে। রণবীর সিংহ মুখ্য চরিত্রে থাকলেও, দর্শক ও সমালোচকদের একাংশের মতে ছবির সবচেয়ে স্মরণীয় অভিনয় অক্ষয়েরই। ‘রহমান ডাকাত’ চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি, সংলাপ বলার ভঙ্গি, এমনকি একটি বিশেষ নাচের দৃশ্য—সব মিলিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। কেউ কেউ তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, এই অভিনয়ের জন্য তাঁর ‘অস্কার’ পাওয়া উচিত।
কিন্তু এই প্রশংসার নেপথ্যে ছিল বেশ কিছু কঠিন মুহূর্তও। তার মধ্যে অন্যতম—একটি দৃশ্যের জন্য সহ-অভিনেত্রী সৌম্যা টন্ডনের হাতে টানা সাত বার চড় খাওয়া!
ছবিতে অক্ষয় ও সৌম্যা স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে। গল্পের এক আবেগঘন মুহূর্তে তাঁদের ছেলেকে হারান তাঁরা। ছেলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন সৌম্যার চরিত্র। শোক, রাগ আর অসহায়তার চাপে তিনি স্বামীকে দায়ী করেন এই মৃত্যুর জন্য। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই স্বামীর গালে চড়—এমনটাই ছিল দৃশ্যের প্রয়োজন।
কাগজে-কলমে দৃশ্যটি সহজ মনে হলেও, শুটিং ফ্লোরে তা মোটেও সহজ ছিল না। সৌম্যা নিজেই পরে জানিয়েছেন, প্রথমে অক্ষয়কে চড় মারতে ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল তাঁর। সহ-অভিনেতাকে সত্যি সত্যি আঘাত করতে মন সায় দিচ্ছিল না। বারবার হাত থমকে যাচ্ছিল।
কিন্তু এখানেই অক্ষয়ের পেশাদারিত্ব। দৃশ্যটিকে যতটা সম্ভব বাস্তব করে তুলতে তিনি নিজেই পরিচালক আদিত্য ধরকে অনুরোধ করেন বারবার রিটেক নেওয়ার জন্য। সৌম্যা বলছেন, “আদিত্য আর অক্ষয়—দু’জনেই চাইছিলেন, দর্শক যেন ওই মুহূর্তে চরিত্রের যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে। তাই প্রতিটা চড়ের পর অক্ষয় নিজেই বলছিলেন, ‘আরও একবার নিই’। শেষ পর্যন্ত সাত নম্বর টেকেই তিনি বললেন, এবার ঠিক হয়েছে।”
সাত বার চড়—শুনতে যতটা নাটকীয় লাগে, সেটের পরিবেশ ততটাই আবেগঘন ছিল। কোনও রাগ বা বিরক্তি নয়, বরং চরিত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়ার তাগিদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত। অক্ষয়ের মতে, যদি একটি দৃশ্য দর্শকের মনে দাগ কাটে, তা হলে সামান্য শারীরিক অস্বস্তি তাঁর কাছে তুচ্ছ।
এই ঘটনাই আবার মনে করিয়ে দেয়, কেন অক্ষয় খন্নাকে ‘অ্যাক্টরস অ্যাক্টর’ বলা হয়। তিনি প্রচারের আলো এড়িয়ে চলেন, কিন্তু কাজের জায়গায় কোনও আপস করেন না। ‘ধুরন্ধর’-এ তাঁর অভিনয় যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনই এই সাত চড়ের গল্প অভিনেতার নিষ্ঠা আর পেশাদার মনোভাবের আরেকটা উদাহরণ হয়ে রইল।
পর্দায় মুহূর্তটা কয়েক সেকেন্ডের। কিন্তু তার পিছনে লুকিয়ে থাকা এই পরিশ্রমই হয়তো অভিনয়কে সত্যি করে তোলে।