অতিরিক্ত প্রস্তুতির ফাঁদে ইংল্যান্ড! অ্যাশেজে ভরাডুবির পর ম্যাকালামের আত্মসমালোচনা, স্টোকসের কঠোর হুঁশিয়ারি

অতিরিক্ত প্রস্তুতির ফাঁদে ইংল্যান্ড! ব্রিসবেনে দিন-রাতের টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাস্ত হয়ে অ্যাশেজ সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। হার নিয়ে যখন সমালোচনা চরমে, তখন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ও অধিনায়ক বেন…

December 9, 2025
1 min read

অতিরিক্ত প্রস্তুতির ফাঁদে ইংল্যান্ড!

ব্রিসবেনে দিন-রাতের টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাস্ত হয়ে অ্যাশেজ সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড। হার নিয়ে যখন সমালোচনা চরমে, তখন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকস সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে ব্যাখ্যা দিলেন এই বিপর্যয়ের। কেউ বলছেন অতিরিক্ত প্রস্তুতি দলের ক্ষতি করেছে, আবার কারও মতে যথেষ্ট প্রস্তুতিই হয়নি— এই দ্বন্দ্বই যেন ইংল্যান্ডের সাজঘরের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে ইংল্যান্ডের প্রস্তুতি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। পার্‌থে প্রথম টেস্টের আগে লিলাক হিলে নিজেদের মধ্যেই তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল দল, যা পার্‌থের উইকেটের সঙ্গে কোনও মিলই ছিল না। পরের প্রস্তুতি ম্যাচও হয়নি— ব্রিসবেনে গোলাপি বলের টেস্টের আগে ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রীর একাদশের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েও তা এড়িয়ে যায় দল। বদলে ব্রিসবেনেই টানা পাঁচ দিন অনুশীলন চালায় ইংল্যান্ড, যদিও দলের তিন ক্রিকেটার আগে কখনও গোলাপি বলে খেলেননি।

হারের পর এই দীর্ঘ প্রস্তুতিই দলের ক্ষতির কারণ বলে মনে করেছেন কোচ ম্যাকালাম। তাঁর সাফ কথা,
“আমাদের প্রস্তুতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে গিয়েছে। কখনও কখনও অতিরিক্ত অনুশীলনও উল্টো ফল দেয়। আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম— মানসিক ও শারীরিক ভাবে সতেজ থাকা জরুরি ছিল।”
এমনকি স্বীকারও করেছেন যে পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবার আগে তিনি আজ রাতে একটু মদ্যপান করে মাথা ঠান্ডা করবেন!

অন্য দিকে, স্টোকসের বক্তব্য যেন ঠিক বিপরীত। তাঁর মতে,
অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশের সঙ্গে যথেষ্ট মানিয়ে নিতে পারেননি ক্রিকেটাররা, প্রস্তুতির ঘাটতিই বড় কারণ। অধিনায়কের কঠোর ভাষায়, দলে দুর্বল ক্রিকেটারদের কোনও জায়গা নেই।

স্টোকস বলেন,
“আমি অধিনায়ক থাকা পর্যন্ত এই দলে দুর্বল মনের খেলোয়াড়দের জায়গা নেই। কঠিন পরিস্থিতি আমরা সামলাতে পারিনি। চাপ নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে জয় আসবে কীভাবে?”
তাঁর কথায় বোঝা যায়, দলের প্রতিভা থাকার পরও চাপের মুহূর্তে ভেঙে পড়াই হারের মূল কারণ। তাই সামনে আরও সাহসী ক্রিকেট খেলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

যদিও সমস্যার বিশ্লেষণ ভিন্ন হলেও দু’জনের লক্ষ্য একই— অ্যাশেজে ঘুরে দাঁড়ানো। ইংল্যান্ড এখনও সিরিজে টিকে আছে। তিনটি টেস্ট বাকি, এবং স্টোকসের বিশ্বাস,
“০-২ পিছিয়ে থেকেও আমরা ফিরতে পারি। তবে তার জন্য লড়াই করতে হবে— অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ায় হারানো কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।”

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *