৪০ বছর পর আবার মেক্সিকোতে ইংল্যান্ড!
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সেই বিতর্কিত ম্যাচ এখনও ইংল্যান্ড সমর্থকদের মনে তাজা। Diego Maradona-র ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং তাঁর অবিশ্বাস্য একক নৈপুণ্যের গোল ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে। ঠিক ৪০ বছর পর আবার মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ খেলতে নামছে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক Mexico। আর সেই ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা, প্রস্তুতি এবং মানসিক দিক— সব ক্ষেত্রেই বিশেষ পরিকল্পনা করেছে ইংল্যান্ড শিবির।
প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চিন্তা শুধু প্রতিপক্ষ নয়, মেক্সিকোর উচ্ছ্বসিত সমর্থকরাও। সম্প্রতি ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বিপক্ষ দলের হোটেলের বাইরে গভীর রাতে আতশবাজি, ঢাক-ঢোল এবং উচ্চ শব্দ করে ফুটবলারদের ঘুম নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় সমর্থকেরা। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার নিজেদের হোটেলের অবস্থান গোপন রাখছে ইংল্যান্ড।
শুধু তাই নয়, দলের ফুটবলারদের জন্য বিশেষ ঘুম-সহায়ক ডিভাইসেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘ইয়ারবাড’ বা ‘স্লিপ ব্যান্ড’-জাতীয় এই যন্ত্রের মাধ্যমে বাইরের শব্দ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। যাঁদের কাছে এমন ডিভাইস নেই, তাঁদের জন্য ফুটবল সংস্থার তরফেই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ম্যাচের আগে বিশ্রামে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।
উচ্চতাজনিত সমস্যার কথাও মাথায় রেখেছেন ইংল্যান্ডের কোচ Thomas Tuchel। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত Estadio Azteca-য় খেলা হওয়ায় বলের গতি ও আচরণে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। সেই কারণে অন্য ম্যাচগুলোর তুলনায় এবার দলকে দু’দিন আগে মেক্সিকো সিটিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
টুখেলের কথায়, উচ্চতার কারণে বল স্বাভাবিকের চেয়ে আরও দূরে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতির সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য। যদিও অনেক আগে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগ নেই, তাই সীমিত সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি সারতে হবে।
মেক্সিকোয় ফের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার প্রসঙ্গে ১৯৮৬ সালের স্মৃতিও টেনে এনেছেন ইংল্যান্ড কোচ। তাঁর আশা, এবার ভাগ্য তাঁদের পক্ষেই থাকবে। টুখেলের মতে, চার দশক আগে Diego Maradona-র প্রথম গোলটি বর্তমানের প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবলে কখনও বৈধ গোল হিসেবে গণ্য হত না। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে, মারাদোনার দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ— যেখানে তিনি একের পর এক ইংরেজ ফুটবলারকে কাটিয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলটি করেছিলেন।
ইংল্যান্ড এবার সেই পুরনো হতাশার অধ্যায় পেরিয়ে নতুন ইতিহাস লিখতে চায়। আর তার জন্য মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের প্রতিটি খুঁটিনাটিতেও কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় টুখেলের দল।