‘রাহাকে স্তন্যপান করিয়ে আমি নিজেই লাভবান হয়েছি’ — মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা জানালেন আলিয়া ভট্ট

‘রাহাকে স্তন্যপান করিয়ে আমি নিজেই লাভবান হয়েছি’! মাত্র ৩০ বছর বয়সে মা হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভট্ট। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি কন্যা রাহার জন্ম দেন। মা হওয়ার পরেও দ্রুতই…

October 4, 2025
1 min read

‘রাহাকে স্তন্যপান করিয়ে আমি নিজেই লাভবান হয়েছি’!

মাত্র ৩০ বছর বয়সে মা হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভট্ট। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি কন্যা রাহার জন্ম দেন। মা হওয়ার পরেও দ্রুতই ফিরে আসেন সিনেমার জগতে, আর তাঁকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি সদ্য সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এত দ্রুত আগের ফিটনেস ফিরে পাওয়া দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠেছিল, রাতারাতি কীভাবে ওজন ঝরালেন আলিয়া?

সম্প্রতি কাজল এবং টুইঙ্কল খন্নার এক অনুষ্ঠানে এসে সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়েছেন অভিনেত্রী। আলিয়া স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর দ্রুত ওজন কমার মূল রহস্য ছিল রাহাকে স্তন্যপান করানো।

তিনি বলেন, “আমি মেয়েকে বুকের দুধ খাওয়াতাম, আর সেটাই আমার ক্যালোরি ক্ষয়ে অনেক সাহায্য করেছে। শরীর থেকে প্রচুর ক্যালোরি বেরিয়ে যেত, যা স্বাভাবিক ভাবেই ওজন কমাতে সাহায্য করেছিল।” শুধু তাই নয়, আলিয়া নিয়মিত যোগব্যায়াম করতেন এবং বাড়ির তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেন, যা শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করেছিল।

আলিয়া বলেন, “অনেকে ভাবেন আমি নিশ্চয়ই কোনও ওষুধ খেয়েছি বা কৃত্রিম পদ্ধতিতে ওজন কমিয়েছি। কিন্তু তা একেবারেই সত্যি নয়। আমি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পদ্ধতিতে এগিয়েছি — মেয়েকে বুকের দুধ খাইয়েছি, নিয়মিত ব্যায়াম করেছি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রত্যেকের শরীর আলাদা। তাই এক জনের সঙ্গে আর এক জনের তুলনা করা উচিত নয়। কারও ক্ষেত্রে ওজন কমতে সময় লাগে, কারও ক্ষেত্রে সহজেই কমে যায়। আমার শরীর যেভাবে প্রতিক্রিয়া করেছে, সেটা সবার ক্ষেত্রেই নাও হতে পারে। তাই নিজের শরীরকে বোঝা এবং তার অনুযায়ী যত্ন নেওয়া খুব জরুরি।”

মাতৃত্বকালীন সময়ে ওজন বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক বিষয়। কারও ক্ষেত্রে সেই ওজন কমতে সময় লাগে, আবার কারও ক্ষেত্রে দ্রুতই কমে যায়। চিকিৎসকরাও বলেন, সন্তান জন্মের পর মেয়েকে স্তন্যপান করানো মায়ের শরীরের জন্যও উপকারী। এতে শুধু শিশুই পুষ্টি পায় না, মায়ের শরীর থেকেও ক্যালোরি খরচ হয়, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

রাহার জন্মের সাত মাসের মধ্যেই আগের গঠন ফিরে পেয়ে আলিয়া অনেককেই অবাক করেছিলেন। অনেকেই তখন সমালোচনা করে বলেছিলেন, তিনি হয়তো কোনও কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আলিয়া সেসব মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের পথে হেঁটেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে স্বাভাবিক উপায়েও মা হওয়ার পর শরীরকে আগের মতো ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আলিয়ার মতে, মাতৃত্ব কোনও প্রতিযোগিতা নয়। “প্রত্যেক মা-ই নিজের মতো করে শরীরকে সময় দেবেন। কেউ দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরতে পারেন, কেউ সময় নেন। সেটাতে লজ্জার কিছু নেই,” বলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, আলিয়ার অভিজ্ঞতা নতুন মায়েদের জন্য এক বড় বার্তা বয়ে আনে — সন্তানকে স্তন্যপান করানো শুধু শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, মায়ের নিজের শরীরের পক্ষেও উপকারী হতে পারে। আর ধৈর্য, সঠিক খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম থাকলে ওজন কমানো একেবারেই অসম্ভব নয়।

কষা মাংসের রান্নায় পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখে জল? জানুন ৫ কার্যকরী টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *