দুর্গাপুজোয় নতুন গন্তব্য কাশ্মীরে
প্রায় পাঁচ মাস পর জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় ১২টি পর্যটনকেন্দ্র আবারও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিন্হা ঘোষণা করেছেন, আসন্ন সোমবার, অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে যাবে এই কেন্দ্রগুলি। দুর্গাপুজোর মরসুমে এই সিদ্ধান্তে নিঃসন্দেহে খুশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলেই।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলায় বৈসরন উপত্যকায় ২৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি জঙ্গিরা। সেই ঘটনার পর থেকেই সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় প্রশাসন কাশ্মীর উপত্যকার সাতটি এবং জম্মুর পাঁচটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। পাঁচ মাস পরে সেই নিষেধাজ্ঞা অবশেষে উঠল।
নতুন করে খুলে দেওয়া হবে যে ১২টি পর্যটনকেন্দ্র, তার মধ্যে সাতটি কাশ্মীর উপত্যকায় অবস্থিত — আরু ভ্যালি, ইয়ান্নারের র্যাফটিং পয়েন্ট, আক্কাদ পার্ক, পাদশাহি পার্ক এবং কামান পোস্টসহ আরও দুটি কেন্দ্র। জম্মু অঞ্চলের মধ্যে খোলা হচ্ছে দাগন টপ, রামবন, কাঠুয়ার ধাগ্গার, রিয়াসি এবং সালালের শিব গুহা।
শুক্রবার শ্রীনগরের রাজভবনে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইউনিফাইড হেডকোয়ার্টার্স’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্য সচিব অটল দুল্লো ছাড়াও সেনাবাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরই সোমবার থেকে এই পর্যটনকেন্দ্রগুলি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। সেই হামলার জবাবে ভারত ৭ মে পাকিস্তানের মাটিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালায়। চার দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষের পরে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি)-তে এখনও উত্তেজনার ছায়া রয়ে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পর্যটনকেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই কাশ্মীরের প্রতি আস্থা ফেরানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনের দাবি, ওই এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেনা ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারির জন্য আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে, যাতে পর্যটকরা নিশ্চিন্তে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।
দুর্গাপুজোর সময়ে এই পদক্ষেপ পর্যটন শিল্পকে নতুন গতি দেবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন হোটেল, গেস্টহাউস, দোকানপাট এবং গাইডরা। নতুন করে পর্যটনকেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত তাঁদের জীবিকায় নতুন আশা জোগাবে।
একই সঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার বিষয়ে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যটকদেরও অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলেন এবং কোনও সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানান।
সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও সন্ত্রাসের পর আতঙ্কে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া পর্যটন আবারও প্রাণ ফিরে পেতে চলেছে কাশ্মীর উপত্যকায়। প্রকৃতির মনোরম রূপ আর পাহাড়-নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পুজোর মরসুমে জম্মু ও কাশ্মীর আবারও হতে চলেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
পাঁচ মাসের অন্ধকার কাটিয়ে খুলে যাওয়া এই ১২টি পর্যটনকেন্দ্র কাশ্মীরের পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে— ঠিক যেমন ভয়ের ছায়া কাটিয়ে পাহাড়ে ফের ফুটে ওঠে শরতের সূর্য।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা