তবু চিন্তা ব্যাটিং অর্ডার ও ফিল্ডিং নিয়ে
বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত। অভিষেক শর্মা ও শুভমন গিলের ব্যাটে ভর করেই জয় এল সূর্যকুমার যাদবদের ঝুলিতে। তবে ম্যাচ জিতলেও একাধিক প্রশ্ন উঠে গিয়েছে দলের ব্যাটিং অর্ডার ও ফিল্ডিং নিয়ে, যা রবিবারের ফাইনালের আগে গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়াতে বাধ্য।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের ইনিংস শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। প্রথম তিন ওভারে ধীরে খেললেও চতুর্থ ওভার থেকে হাত খুলে খেলে রান তুললেন অভিষেক ও শুভমন। পাওয়ারপ্লেতে ৭২ রান তুলে দলকে শক্ত ভিত দিলেন তাঁরা। অভিষেক করলেন আরও একটি ঝলমলে অর্ধশতরান—২৫ বলে পঞ্চাশ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৭৫ রানে আউট হলেন রান আউট হয়ে। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। তিনি যতক্ষণ ছিলেন, মনে হচ্ছিল ভারত সহজেই ২০০ রানের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলবে।
কিন্তু অভিষেক ফিরতেই খেলার মোড় ঘুরে যায়। শুভমনও ২৯ রানে আউট হন। আর তখনই শুরু হয় ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন। তৃতীয় নম্বরে সূর্যকুমার যাদব বা তিলক বর্মার পরিবর্তে নেমে আসেন শিবম দুবে। তাঁর হাতে খুব বেশি সুযোগ ছিল না, তবু এই পরিবর্তন ব্যাটিং ছন্দ নষ্ট করে দেয়। শিবম ব্যর্থ হন, সূর্য ও তিলকও তাঁদের স্বাভাবিক জায়গায় খেলতে না পেরে দ্রুত ফিরে যান। এমনকি সঞ্জু স্যামসনের মতো একজন ব্যাটারকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
শেষ দিকে হার্দিক পান্ডিয়া কিছুটা লড়াই করেন। তাঁর ২৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংসের দৌলতেই ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৮ রানে পৌঁছতে পারে। অথচ বাংলাদেশের বোলিংয়ের মান দেখে অন্তত ২০০ রান তোলা উচিত ছিল।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ বুঝে গেল ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে কতটা পার্থক্য। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছন্দে না থাকা জসপ্রীত বুমরাহ নিজের ছন্দে ফিরে এসে প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমকে ফিরিয়ে দেন। এরপর সইফ হাসান কিছুটা লড়াই করলেও একের পর এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
সইফ একাই দাঁড়িয়ে লড়লেন, ৫১ বলে ৬৯ রান করলেন। তবে ভারতীয় ফিল্ডাররা তাঁকে সাহায্য করতে পিছপা হননি—তাঁর তিনটি সহজ ক্যাচ পড়ে যায়। সব মিলিয়ে ভারতীয়রা ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ ফেলেছেন। এশিয়া কাপে এ পর্যন্ত ১২টি ক্যাচ পড়েছে ভারতের হাত থেকে, যা আট দলের মধ্যে সর্বাধিক। এই পরিসংখ্যান ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের মাথাব্যথা বাড়াবে নিশ্চিত।
স্পিনারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা পুরোপুরি ব্যর্থ। কুলদীপ যাদব ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন। বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী ২টি করে এবং অক্ষর পটেল ও তিলক বর্মা ১টি করে উইকেট পান। বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১২৭ রানে।
এই জয়ের ফলে ভারত শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলবে। বৃহস্পতিবারের পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ কার্যত সেমিফাইনালে পরিণত হবে, যার জয়ী দল রবিবার ফাইনালে সূর্যদের মুখোমুখি হবে।
তবে ফাইনালের আগে ভারতীয় শিবিরে সুখের সঙ্গে উদ্বেগও রয়েছে। একদিকে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাটিং অর্ডারের অস্থিরতা ও ফিল্ডিংয়ের ভুল চিন্তা বাড়াচ্ছে। সঞ্জু স্যামসনের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারকে ব্যবহার না করা এবং জায়গা বদলে ব্যাটিং অর্ডার নাড়া দলের ছন্দ নষ্ট করতে পারে। সেই সঙ্গে ক্যাচ পড়ার প্রবণতা ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভারত ফাইনালের পথে এগোল ঠিকই, কিন্তু ট্রফি হাতে তুলতে হলে ব্যাটিং অর্ডার ও ফিল্ডিংয়ে বড়সড় সংশোধন আনতেই হবে সূর্যদের।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা