নুসরতের সই জালের অভিযোগও বাতিল
টানা ছ’মাস ধরে আইনি জটিলতায় ছিলেন পরিচালক রাজর্ষি দে। মার্চ মাসে তাঁর বিরুদ্ধে প্রযোজক অরিন্দম ঘোষ এবং অভিনেতা-প্রযোজক প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য আর্থিক প্রতারণা এবং নুসরত জাহানের সই জালের অভিযোগ এনেছিলেন। পুজোর আগেই এই চাপ কাটল—আদালত সমস্ত অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণিত করে রাজর্ষিকে মামলা থেকে সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে।
আনন্দবাজার ডট কম-কে রাজর্ষি জানান, “শুরু থেকেই আমি বলেছি, আমি আর্থিক প্রতারণায় জড়িত নই। নুসরত বা অন্য কারও সই নকল করিনি। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি তা বিশ্বাস করেনি।” তিনি আরও যোগ করেন, সেই সময় রটেছিল, তিনি বাংলা বিনোদন জগতের অনেক খ্যাতনামীর টাকা মেরে দিয়েছেন। “কারও কথার প্রতিবাদ সে দিন করিনি। আমি আইনের উপর ভরসা রেখেছিলাম। জি বাংলা আমার হয়ে মামলা দায়ের করেছিল। আদালতের চোখে প্রমাণিত, আমি নির্দোষ। এই দিনটির অপেক্ষাতেই ছিলাম।”
মাঝে ছয় মাস জুড়ে যেসব চাপ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েন, আর অজানা চিঠিপত্রের জটিলতা—সবই যেন পেছনে ফেলে দিয়েছেন রাজর্ষি। সেই কারণে তাঁর মুখে এবার চওড়া হাসি। পুজোর আগে স্বস্তি ফিরে এসেছে, এবং তিনি বলতে পারেন, আইনের কাছে সত্য সর্বদা জয়ী হয়।
অভিযোগকারীদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। অরিন্দম ঘোষ এবং প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের ফোন বন্ধ ছিল। ফলে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজর্ষির এই বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত স্বস্তি নয়, বাংলা বিনোদন জগতের মধ্যেও একটি বার্তা দেয়—আইনের প্রতি বিশ্বাস এবং ধৈর্য কখনও বৃথা যায় না। এই ছয় মাসের আইনি লড়াইয়ের পরে পরিচালক তার পেশাগত কাজে মন দিতে পারেন, এবং আগামী সময়ে নতুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নুসরত জাহানের সই জালের অভিযোগ এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া রাজর্ষির জন্য নতুন শুরু। এই ঘটনা তাকে আরও দৃঢ় করেছে, এবং বিনোদন জগতের অন্যান্য শিল্পী ও পরিচালককেও সতর্ক বার্তা দিয়েছে—অযথা অভিযোগের চাপ থাকলেও আইনের কাছে সত্য সেভাবে নিজেকে প্রমাণিত করতে পারলে পরিস্থিতি ম্যানেজ করা সম্ভব।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা