প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে এফআইআর
কলকাতার নামী রানি বিড়লা গার্লস কলেজকে ঘিরে ফের তৈরি হল চাঞ্চল্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় এই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি। তাঁর নিয়োগ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। এর মাঝেই কলেজের অধ্যক্ষা শ্রাবন্তী ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠে গুরুতর অভিযোগ, এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দায়ের হয় এফআইআর।
অভিযোগ এনেছেন কলেজের হিন্দি বিভাগের অধ্যাপক মন্টু দাস, যিনি তফসিলি জাতিভুক্ত। তাঁর দাবি, প্রিন্সিপাল শ্রাবন্তী নিয়মিতভাবে তাঁকে জাত তুলে অপমান করেছেন, সহকর্মীদের সামনে হেনস্থা করেছেন এবং চাকরিজীবনে স্বাভাবিক অগ্রগতি আটকে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রিন্সিপাল তাঁর জাতিগত শংসাপত্রকে ভুয়ো বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এমনকি এসসি-এসটি সেলে তাঁর নাম নথিভুক্ত হতেও দেননি। মন্টুর কথায়, ‘‘শ্রাবন্তীভট্টাচার্য্য আমাকে চামার বলে অপমান করেছেন। ছাত্রছাত্রীদের সামনেও ছোট করেছেন। আমার পদোন্নতি আটকে দিয়েছেন।’’
শুধু মন্টু দাস নন, কলেজের আরও এক অধ্যাপক কনককুমার জানা অনুরূপ অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, প্রিন্সিপাল তাঁকে কুকথা বলেছেন এবং দুর্ব্যবহার করেছেন। এই বিষয়ে তিনি জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন গত বছর। কমিশন শ্রাবন্তীর কাছে জবাব চেয়েছে, তবে এখনও চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি।
অন্যদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শ্রাবন্তী ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আসল বিষয় হল আদালতে চলা মামলা, আর এই অভিযোগ তার সঙ্গেই যুক্ত।’’ আদালতও জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না।
এদিকে, কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে একটি শোকজ় নোটিস জারি করেছিলেন। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেই শ্রাবন্তী হাই কোর্টে মামলা করেন। বুধবার আদালত নোটিসের উপর আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আদালত প্রশ্ন তুলেছে কাজরীর নিয়োগ নিয়েও। আইন অনুযায়ী, কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। কিন্তু কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় সে মানদণ্ডে পড়েন না বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।
মামলা চলাকালীন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, শ্রাবন্তী যখন কলেজে ফিরতে চান, তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। তাঁর ঘরের সামনে মোতায়েন ছিল পুলিশও। ফলে কলেজজীবনে এক অদ্ভুত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্তরে চাপা টানাপড়েন স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গন জুড়ে ছড়াচ্ছে অস্বস্তি। প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে জাত-বিদ্বেষমূলক হেনস্থার অভিযোগ এবং সভাপতি পদে কাজরীর নিয়োগ নিয়ে আদালতের প্রশ্ন— দুই মিলে রানি বিড়লা গার্লস কলেজ এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
এখন নজর থাকবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশে। কারণ একদিকে যেখানে প্রিন্সিপালের নামে এফআইআর চলছে, অন্যদিকে সভাপতির নিয়োগকেও বেআইনি বলে মনে করছে আদালত। এই দ্বন্দ্বের জেরে কলেজের পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা কার্যত দ্বিধায় পড়েছেন। আগামী দিনে আদালতের রায় কী মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে রানি বিড়লা গার্লস কলেজের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক স্থিতি।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ