ছোট পরিচালকদের ছবি বাদ, নন্দনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন সুদীপ্তা

নন্দনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন সুদীপ্তা টলিউডে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজের সোজাসাপ্টা মতামতের জন্য পরিচিত। এবার আঙুল তুললেন নন্দনের দিকে। অভিযোগ, ছোট প্রযোজক বা…

September 11, 2025
1 min read

নন্দনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন সুদীপ্তা

টলিউডে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজের সোজাসাপ্টা মতামতের জন্য পরিচিত। এবার আঙুল তুললেন নন্দনের দিকে। অভিযোগ, ছোট প্রযোজক বা স্বাধীন পরিচালকদের ছবি দেখানোর জন্যই নন্দনের জন্ম হয়েছিল। অথচ তাঁর অভিনীত টানা দুটি ছবি— ‘আপিস’ এবং সাম্প্রতিক ‘অহনা’— কোনোটিই জায়গা পায়নি এই সরকারি হলে।

সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুদীপ্তা বলেন, “আমার কিছু প্রশ্ন আছে। সেটাই জানতে চেয়েছি। গত এক বছরে আমার অভিনীত কোনও বাংলা নাটক কোনও সরকারি মঞ্চে জায়গা পায়নি, কোনও বাংলা ছবি সরকারি হলে মুক্তি পায়নি। পুরোটাই কি কাকতালীয়?” তাঁর সুরে কটাক্ষ, যদি শিল্পীদের জন্য সরকারি মঞ্চই বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার অস্তিত্বের মানেটাই বা কী?

সরকারের কোপ নেমে এসেছে?

বিনোদন দুনিয়ার অনেকেই মনে করেন, আরজি কর-কাণ্ডের সময় যারা প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার শিকার। সরকারি অনুষ্ঠানে ডাক আসছে না, তাঁদের কাজও সরকারি মঞ্চে ঠাঁই পাচ্ছে না। যদিও শিল্পীরা প্রকাশ্যে সে বিষয়ে খুব কমই মুখ খোলেন, তবে টলিপাড়ার অন্দরে এই ফিসফিসানি বহুদিনের।

সুদীপ্তা কি অবশেষে সেই দিকেই আঙুল তুললেন? প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট বলেন, “যদি খাঁড়া সরে যেত, তাহলে আমি এই প্রশ্ন প্রকাশ্যে তুলতাম না। আমি এখনও শাপমুক্ত হইনি বলেই আমার ছবিগুলো জায়গা পাচ্ছে না।” তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ স্পষ্ট— “কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিগুলো দেখানো হচ্ছে, অথচ নন্দন বা রাধা স্টুডিয়োতে জায়গা মিলছে না। নন্দনের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই ছিল ছোট প্রযোজক ও স্বাধীন পরিচালকদের ছবি দেখানো। যদি তা-ই না হয়, তাহলে এর প্রয়োজন কী?”

অন্দরের বিরোধ আর বেশি প্রকট?

অভিনেত্রী আক্ষেপ করে জানান, সুদেষ্ণা রায়ের ছবি ‘আপিস’-এ তিনি অভিনয় করেছিলেন। অথচ সুদেষ্ণা নিজেই নন্দনের ছবি নির্বাচন কমিটির অন্যতম সদস্য। তবু তাঁর ছবির প্রদর্শনী হয়নি। সুদীপ্তার মতে, ফেডারেশনের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কারণেই এই অবস্থা। তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, “এর থেকে হাস্যকর আর কী হতে পারে!”

দেব প্রসঙ্গ ও তুলনার প্রশ্ন

বিতর্ক আরও বাড়ে যখন প্রসঙ্গ আসে শাসকদলের সাংসদ-অভিনেতা দেবের। শোনা যায়, তাঁর ছবিও নন্দনে দেখানো হয়নি। এ প্রসঙ্গ উঠতেই ক্ষুব্ধ হয়ে সুদীপ্তা প্রশ্ন তোলেন, “দেবের ক্ষমতার সঙ্গে ছোট পরিচালকদের ক্ষমতার তুলনা হয় নাকি? ওঁর ছবি নন্দনে না দেখানো হলেও বাণিজ্যিক প্রেক্ষাগৃহে জায়গা মেলে। কিন্তু পরিচালক প্রমিতা ভৌমিকের মতো নির্মাতাদের সেই ক্ষমতা কোথায়? ওঁর মতো মানুষের ছবি কি তবে দর্শক দেখবেন না?”

নাটকেও অবরোধ

সুদীপ্তার ক্ষোভ শুধু সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর অভিযোগ, নাটক মঞ্চেও তাঁকে একপ্রকার অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। কোনও সরকারি হলে তাঁর নাটক অভিনীত হয়নি বহুদিন। তিনি সাফ জানালেন, “আমার সরকারের সঙ্গে ওঠাবসা নেই। কাকে বললে কাজ হবে, তাও জানি না।”

শিল্পী সমাজে আলোড়ন

সুদীপ্তার এই সরাসরি প্রশ্ন অনেককে অস্বস্তিতে ফেললেও, শিল্পী মহলে তাঁর বক্তব্য নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কেউ মনে করছেন, সাহস করে তিনি শিল্পীদের দমবন্ধ পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে আরও কোপ নেমে আসতে পারে তাঁর উপর।

তবে সুদীপ্তার কথা একটাই— নন্দনের অস্তিত্ব যদি ছোট পরিচালকদের ছবি না দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তবে তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *