তাতে যদি বলেন আমি ক্যালকুলেটিভ, তবে তাই!” – অকপট প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
সোনালি জরির আভাযুক্ত বেজ-খয়েরি পাঞ্জাবিতে যেন সহজ-সরল ‘বাবু’, আবার পরক্ষণেই ভরসার প্রতীক ‘ইন্ডাস্ট্রি’। এমন দ্বৈত সত্তাই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে আলাদা করে তোলে। আসন্ন পুজোয় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর ছবি ‘দেবী চৌধুরাণী’, আর সেই নিয়েই সরাসরি কথোপকথনে ধরা দিলেন বাংলা ছবির এই অগ্রজ নায়ক।
তিনি জানালেন, গত পুজোয় দর্শকদের কাছে তাঁর ছবি পৌঁছায়নি, যা তাঁকেও যেমন খালি খালি লাগিয়েছে, দর্শকরাও তাঁকে মিস করেছেন। তবে এ বছর দেবীপক্ষে তিনি ফিরছেন ‘দেবী চৌধুরাণী’র ভবানী পাঠক হয়ে। “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে এবারই প্রথম অভিনয় করছি, এটাই আমার ‘হ্যাঁ’ বলার অন্যতম কারণ,” স্পষ্ট কথায় জানালেন তিনি।
প্রচারের প্রশ্নে তিনি একেবারে খোলামেলা— “শুধু পুজো নয়, অন্য সময়েও আমরা এভাবে মানুষের কাছে পৌঁছোতে চাই। সমাজমাধ্যমের জন্য এখন সেই রাস্তা আরও সহজ হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের বাইরে, গ্রাম-গঞ্জেও আবার আমরা যাচ্ছি। কারণ, দর্শকের কাছে না গেলে চলবে না।”
শক্তি পান কোথা থেকে? উত্তরে প্রসেনজিৎ বলেন, “আমার একার এনার্জি নয়, পুরো দলের লড়াই আর দর্শকের ভালবাসাই আমার শক্তি।”
ভিন্ন চরিত্রে খিদে
তিনি জানান, অনেক বছর ধরে নিজেকে ভাঙচুর করে নতুন রূপে হাজির হয়েছেন। ফলে সাধারণ চরিত্র আর তাঁর কাছে আসে না। এবারও ভবানী পাঠকের মতো সাধক-যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করা সহজ ছিল না। তাই পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্রকে বারবার জিজ্ঞাসা করেছেন, “ঠিক করছি তো?”— কারণ, পরিচালকের দৃষ্টি পূরণ করাই অভিনেতার প্রধান দায়িত্ব।
বাংলা ছবির জন্য নতুন অধ্যায়
সম্প্রতি ঘোষিত হয়েছে, সারা বছর ধরে প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে বাংলা ছবির প্রাইম টাইম শো থাকবে। প্রসেনজিৎ বলেন, “এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বহু দিনের লড়াইয়ের ফল। দর্শক এখন আবার হলে ফিরছেন। ‘অঙ্ক কী কঠিন’-এর মতো ছবিও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভাল ফল করছে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য বাংলা ছবিকে আরও শক্তিশালী করবে।” তবে সতর্ক করলেন, রাতারাতি বদল হবে না, আরও বৈঠক আর সমঝোতা দরকার।
তিনি চান, উৎসবের মরসুমে শুধু বড় বাজেটের নয়, স্বাধীন পরিচালকদের ছবিও মুক্তি পাক। সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টাও করছেন। “এই ইন্ডাস্ট্রি আমায় অনেক দিয়েছে। আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু করে যাওয়া আমার কাজ।”
উত্তরসূরি প্রসঙ্গ
ছেলে তৃষাণজিৎকে নিয়ে গুঞ্জন প্রসঙ্গে বললেন, “ওর লড়াই ওকেই করতে হবে। আমি সাহায্য করব না, পরামর্শ দেব।” আর বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের কথা তুলতেই দেব, জিৎ, অঙ্কুশ— সবার লড়াই ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করলেন। “আজ থেকে ১৫ বছর পরে হয়তো আমি সর্বত্র থাকতে পারব না, তখন এঁরাই আমার প্রতিনিধি হবেন।”
পরিচালনায় আসার ঘোষণা
অভিনয়ের পাশাপাশি আগামী বছরে পরিচালনায় আসার কথাও জানালেন তিনি। তবে নতুন মুখ নেবেন কি না, তা এখনও স্থির হয়নি।
ব্যক্তিগত দিক
অতীত ফিরে দেখলে আফসোস নেই, তবে মনখারাপও জীবনের অঙ্গ— এই বিশ্বাস নিয়ে এগোন তিনি। সেটে সহকর্মীদের প্রতি তাঁর যত্নশীলতা, সকলকে আগলে রাখা— যেন ‘দাদা’র মতোই।
উত্তমকুমার প্রসঙ্গে
উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওঁকে বিশ্লেষণ করা যায় না। উত্তমকুমার সব বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে। আমি কেবল চাই, মানুষ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধায়কেই যদি আগামী ৫০ বছর মনে রাখে, তাতেই আমি খুশি।”
নিজেকে ‘ক্যালকুলেটিভ’ বলা নিয়ে
হেসেই বললেন, “আমার বইয়েই লিখেছি, আমি ক্যালকুলেটিভ, ম্যানিপুলেটিভ। ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে গেলে অঙ্ক কষতেই হয়। পরিচালকদের প্রভাবিত করি বলেই তাঁরা আমাকে সেরা চরিত্র দেন। একা কেউ ৪৫ বছর টিকে থাকতে পারে না, সবার সঙ্গে নিয়ে চলতে হয়। আমি সেটাই করেছি।”
সব শেষে প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গে জানালেন, “আমি আর কোনও দৌড়ে নেই। শুধু ভাল চরিত্রে অভিনয় করে যেতে চাই। দিনের শেষে ভালটুকুই তো ইন্ডাস্ট্রির সম্পদ হয়ে থাকবে।”
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ