নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ প্রযোজক রানা সরকার
সোমবার ভোর থেকেই প্রত্যাশা ছিল, হাই কোর্টে অবশেষে আলোচনায় আসবে বহুল আলোচিত ফেডারেশন-পরিচালক মামলা। মামলাকারী পরিচালকরা দিনভর অপেক্ষা করলেন। কিন্তু সন্ধে নামতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, সেদিন আর শুনানি হচ্ছে না। আদালতের নির্ধারিত তালিকায় মামলাটি উঠলই না। ফলে আশাহত হয়ে ফিরে যেতে হল পরিচালকদের। তাঁদের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ফের মামলাটি আদালতে উঠতে পারে।
এই সময়েই আলোচনায় এলেন প্রযোজক রানা সরকার। একই বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি আলাদা মামলা দায়ের করলেন। তাঁর আইনজীবী আর্য ভট্টাচার্যের দাবি, প্রযোজক হিসেবে তাঁরও বক্তব্য রাখার অধিকার আছে। কিন্তু এত দিন সেই সুযোগ পাননি। তাই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এক বছরের বেশি সময়ের বিবাদ
ফেডারেশন ও পরিচালক গিল্ডের দ্বন্দ্ব চলছে টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। এ বছরের শুরুতে পরিচালক বিদুলা ভট্টাচার্য প্রথম এককভাবে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ধীরে ধীরে আরও ১৩ জন পরিচালক তাঁর পাশে দাঁড়ান। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও উচ্চ আদালত এখনও কোনও স্পষ্ট রায় দেয়নি। এই দীর্ঘ টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পরিচালকরা যেমন, তেমনই টেকনিশিয়ানরাও।
হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিও বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। মামলাকারী পরিচালকদেরও একই দাবি। কিন্তু সোমবার নির্দিষ্ট দিনে শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় তাঁদের হতাশা বেড়েছে।
কেন পিছল শুনানি?
পরিচালকদের পক্ষে কিংশুক দে ব্যাখ্যা করেছেন, “সোমবার আদালতে একাধিক পুরনো মামলা নতুন করে তালিকায় উঠে আসে। সম্ভবত সেই কারণেই আমাদের মামলাটি সেদিন ওঠেনি।” তাঁর আশা, মঙ্গলবার তাঁদের মামলা অবশ্যই আলোচনায় আসবে।
নতুন মামলা কেন করলেন রানা সরকার?
একই সময়ে প্রশ্ন উঠছে—যখন সকলে মীমাংসার পথ খুঁজছেন, তখন নতুন করে মামলা দায়েরের কারণ কী? এই প্রসঙ্গে সরাসরি মুখ খোলেননি রানা সরকার। তবে তাঁর আইনজীবী আর্য ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন, “নতুন কমিটি গঠনের প্রসঙ্গটি প্রথমে আমার মক্কেল সংবাদমাধ্যম মারফত জানতে পারেন। তখনই তিনি মনে করেন, দিনশেষে কোনও সমস্যার দায়-দায়িত্ব প্রযোজকের ঘাড়েই বর্তায়। অথচ, তাঁদের কাউকে মতামত জিজ্ঞেস করা হচ্ছে না। তাই নিজের বক্তব্য জানানোর জন্য তিনি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।”
রানা সরকারের মামলাও সোমবার আদালতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সেটিও হয়নি। আইনজীবী জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলবার তাঁর মামলাও হাই কোর্টে উঠতে পারে।
আগামীর পথ
এখন প্রশ্ন একটাই—ফেডারেশন ও পরিচালক গিল্ডের জট কবে খুলবে? পরিচালকদের দাবি, এই অচলাবস্থা চলতে থাকলে বাংলা চলচ্চিত্র ও সিরিয়ালের কাজ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, প্রযোজক রানা সরকারের নতুন মামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে সকলেই একমত যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব শেষ করে শিল্পী, টেকনিশিয়ান ও প্রযোজক—সব পক্ষের স্বার্থে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। আদালত মঙ্গলবার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা টলিপাড়া।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ