পুজোর আগে তাঁর রূপচর্চার সহজ টোটকা
১৯৮৯ সালে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে, কিন্তু আজও তিনি সমান ব্যস্ত, সমান আকর্ষণীয়। বয়স বাড়লেও তাঁর সৌন্দর্যের জাদুতে মুগ্ধ বাংলা। অথচ তিনি নিজেই স্বীকার করেন— ঘুম তাঁর জীবনে অনেক কম। কখনও চার ঘণ্টা, কখনও তারও কম। তবুও ত্বক ও সৌন্দর্যে ক্লান্তি বা বয়সের ছাপ নেই!
ঋতুপর্ণার মতে, সৌন্দর্যের মূল আসলেই স্বাস্থ্য আর মানসিক শান্তি। তিনি বলেন, “অভিনয়ে যেমন স্বতঃস্ফূর্ত থাকতে চাই, ত্বকচর্চায়ও তাই। রূপ মানেই স্বাস্থ্য।” তাই তিনি কৃত্রিম কসমেটিকের উপর ভরসা না করে বরং শৈশব থেকে পাওয়া মা-বাবার উপদেশ মেনে চলেন।
সম্প্রতি মাকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বাবা প্রয়াত হয়েছেন ২০১০ সালে। নিজের যত্নের প্রসঙ্গ উঠলেই এই দুই মানুষকেই স্মরণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকে বাবা তাঁকে শিখিয়েছিলেন, শরীরের স্বাস্থ্যের শুরু পেট পরিষ্কার রাখার মধ্য দিয়েই। সকালে উঠেই শৌচকর্ম সেরে নেওয়া, দিনে প্রচুর জল খাওয়া, আর প্রয়োজন হলে ইসবগুল খাওয়া— এগুলো তাঁর বাবার দেওয়া নিয়ম। মা-ও নিয়ম করে খাওয়াতেন তেতো— কখনও চিরতার জল, কখনও থানকুনি পাতার রস, আবার কখনও উচ্ছে। ছোটবেলায় এগুলো তাঁর কাছে বিরক্তিকর ছিল, কিন্তু এখন তিনি উপলব্ধি করেন, এই ছোট্ট অভ্যাসগুলোই তাঁকে শক্ত ভিত দিয়েছে।
ত্বকচর্চার ক্ষেত্রেও মায়ের অবদান বিশেষ। ছোটবেলায় মা কমলালেবুর খোসা পিষে দুধের সর মিশিয়ে মুখে লাগাতেন তাঁর। সপ্তাহে এক দিন মাথায় তেল দিয়ে শ্যাম্পু করতেন। চুল শুকত প্রকৃতির হাওয়ায়, আর সেই যত্নেই চুল থাকত ঘন ও স্বাস্থ্যবান। বাবাকেও তিনি নিয়ম করে নারকেল তেল মেখে স্নান করতে এবং রাতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে দেখেছেন। আজ যখন সমাজমাধ্যম ভরে যাচ্ছে ঘরোয়া টোটকার প্রচারে, তখন তিনি অবাক হয়ে ভাবেন— মা-বাবা বহু বছর আগে থেকেই এসব মেনে চলতেন!
আজও তাঁর রুটিন খুব সাদামাটা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ঘুম হলেও চোখের নীচে কালি পড়ে না। এর রহস্য তাঁর ‘পাওয়ার ন্যাপ’। কাজের ফাঁকে ক্লান্ত লাগলেই মিনিট দশেক চোখ বুজে নেন। এই ছোট্ট ঘুম তাঁকে অনেকটা শক্তি দেয়।
মেকআপ তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর অভ্যাস একই রকম সহজ। কেবল ময়েশ্চারাইজার দিয়ে মেকআপ তোলেন, তারপর মুখ ধুয়ে নেন। মাঝে মাঝে বরফের টুকরো ঘষে নেন মুখে। তবে শুরুর দিনগুলোতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেন না, তাই রোদে পোড়া ছিল নিত্যসঙ্গী। সে সময় টোটকাই ছিল ভরসা— শুটিং শেষে দুধ, ময়দা, লেবু, টম্যাটোর রস মিশিয়ে মুখে মাখতেন।
আজও তিনি মনে করেন, সৌন্দর্যের মূল চাবিকাঠি হল সঠিক অভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আর মানসিক শান্তি। ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা, যথাসম্ভব মন ভালো রাখাই তাঁর সৌন্দর্যের গোপন রহস্য। তাঁর বিশ্বাস, ত্বকে অতিরিক্ত কসমেটিক্সের স্তর চাপালে প্রাকৃতিক শ্রী হারিয়ে যায়।
পুজোর আগে তাই ঋতুপর্ণার রূপচর্চার পাঠ একেবারেই সহজ— স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মনকে শান্ত রাখা, অল্প সময়েও ঘুমের সঠিক ব্যবহার, আর শৈশব থেকে পাওয়া কিছু ঘরোয়া টোটকা। এই সাদামাঠা অভ্যাসই তাঁকে আজও টলিউডের অন্যতম সুন্দরী নায়িকা করে রেখেছে।
Cha
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ