মালদহে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেফতার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যে। ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বহিষ্কৃত নেতা নাসিমুল হক ওরফে এবি সোয়েলকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার স্থানীয় এক ব্যক্তি চাঁচল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানানো হয়, রবীন্দ্রনাথের ছবি পোড়ানো ছাড়াও তিনি আরও কিছু বেআইনি কাজে জড়িত। অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মালদহ জেলা পুলিশের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গ্রেফতারের খবর জানানো হয়েছে। মঙ্গলবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরে এই ঘটনা নিয়ে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। মালদহের চাঁচলে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল। সেখানে মোদী ও অমিত শাহের ছবিতে আগুন দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় ভুলবশত বা অসতর্কতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতেও আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় শোরগোল।
বাংলার মানুষের আবেগের কেন্দ্রে থাকা রবীন্দ্রনাথের ছবিতে আগুন লাগার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুধু বিরোধীরা নয়, সাধারণ মানুষও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে আক্রমণে নামে। তাঁদের দাবি, বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান করা হয়েছে।
বিতর্ক বাড়তে থাকায় তৃণমূল নেতৃত্ব তৎপর হয়। সোমবারই অভিযুক্ত নাসিমুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি মালদহের কলেজ ছাত্র পরিষদের ইউনিট ভেঙে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। দলীয় নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, সংগঠনের নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না।
ঘটনাস্থল সম্পর্কেও জানা যাচ্ছে নতুন তথ্য। স্থানীয় সূত্রে খবর, ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের মঞ্চ খুলে দিয়েছিল সেনা। সেই ঘটনার প্রতিবাদে চাঁচল কলেজের সামনে বাংলার মনীষীদের ছবি হাতে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। সেখানেই মোদী ও শাহের ছবিতে আগুন দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যেই আগুন লেগে যায় রবীন্দ্রনাথের ছবিতেও। উপস্থিত কর্মীরা তখনই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তার আগেই ঘটনাটি ভিডিও হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এ নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করে জানায়, ‘‘আমরা সর্বদা দেশের মহামনীষী, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। সংগঠনের নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনও কাজকে আমরা কখনওই বরদাস্ত করব না। বাংলার স্বার্থবিরোধী এবং বিজেপির বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন আগের মতোই চলবে।’’
তবুও বিতর্ক থামেনি। অনেকের মতে, এই ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, নাসিমুলের গ্রেফতারি এবং সংগঠন ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তৃণমূল কি বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রশমিত করতে পারবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানো নিয়ে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা শুধু রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগের প্রশ্নও বটে। তাই এই ঘটনাকে ঘিরে এত তীব্র প্রতিক্রিয়া হওয়াটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ