চোটের লড়াই সামলে ফাইনালে সিনার, প্রতিদ্বন্দ্বী আবার আলকারাজ়

প্রতিদ্বন্দ্বী আবার আলকারাজ় ইউএস ওপেনের সেমিফাইনাল ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। প্রতিপক্ষ ফেলিক্স অগার আলিয়াসিমে লড়াই জমিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ইয়ানিক সিনার। চোট-আতঙ্ক, এক সেট…

September 6, 2025
1 min read

প্রতিদ্বন্দ্বী আবার আলকারাজ়

ইউএস ওপেনের সেমিফাইনাল ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। প্রতিপক্ষ ফেলিক্স অগার আলিয়াসিমে লড়াই জমিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ইয়ানিক সিনার। চোট-আতঙ্ক, এক সেট হারানো, দর্শকের সমর্থন না পাওয়া— সব কিছু সামলেই ৩ ঘণ্টা ২১ মিনিটের লড়াই শেষে (৬-১, ৩-৬, ৬-৩, ৬-৪) জায়গা করে নিলেন ফাইনালে। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবারও কার্লোস আলকারাজ়। অর্থাৎ চলতি বছর ফরাসি ওপেন ও উইম্বলডনের পর আরও একবার দেখা যাবে এক নম্বর বনাম দুই নম্বরের দ্বন্দ্ব।

শুরুটা ছিল সিনারের দাপটেই। প্রথম সেটে তাঁর সার্ভিস ও পাওয়ার গেমের সামনে পুরোপুরি অসহায় লাগছিল আলিয়াসিমেকে। বিশেষ করে সিনারের দ্বিতীয় সার্ভিসের টপ স্পিন সামলানো কঠিন হয়ে উঠছিল কানাডার তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে। প্রথম সেট সহজেই জিতে নিয়েছিলেন সিনার।

কিন্তু দ্বিতীয় সেটে ছবিটা পাল্টে যায়। সিনারের সার্ভিস হঠাৎই গতি হারায়, বোঝা যাচ্ছিল শরীরে সমস্যা হচ্ছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাসী খেলা শুরু করেন আলিয়াসিমে। দর্শকেরাও ছিলেন তাঁর পাশে। উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তুলেছিলেন আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম। সিনারের সার্ভিস ভেঙে সেটও জিতে নেন আলিয়াসিমে। মুহূর্তে মনে হয়েছিল, সিনারের যাত্রা থমকে যাবে এখানেই।

তবে চ্যাম্পিয়নেরা তো এক সুযোগেই খেলা ঘুরিয়ে দিতে জানেন। দ্বিতীয় সেট শেষে লকার রুমে গিয়ে চিকিৎসা নিলেন সিনার। পেটের পেশিতে টান ধরায় তাঁর সার্ভিসে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু ফিরে এসে যেন নতুন রূপে হাজির হলেন। তৃতীয় সেটে আবার আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন। একবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভেঙে সেট নিজের দখলে আনলেন।

চতুর্থ সেটেই জমে ওঠে সবচেয়ে তীব্র লড়াই। দীর্ঘ র‌্যালি, একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া, দর্শকদের নিঃশ্বাস আটকে রাখা মুহূর্ত— সবকিছুর সাক্ষী থাকল স্টেডিয়াম। প্রায় ১২ মিনিট ধরে চলা এক গেমে তিনবার সিনারের সার্ভিস ভাঙার সুযোগ পান আলিয়াসিমে। কিন্তু প্রতিবারই ফেরেন সিনার। অভিজ্ঞতার জোরে তিনি পরিস্থিতি সামলে নেন।

অবশেষে পঞ্চম গেমে মোক্ষম ভুল করে বসেন আলিয়াসিমে। ডবল ফল্ট করে বসেন তিনি। সিনার সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। সার্ভিস ব্রেক করে এগিয়ে যান, তারপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি। নিজের সার্ভিস ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করেন।

যদিও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে আলিয়াসিমেকে, কিন্তু তিনি মন জিতে নিয়েছেন দর্শকের। দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন সবাই। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ২৫ নম্বরে থাকলেও সেদিনের খেলায় বোঝা যাচ্ছিল, সিনারের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই তিনি। প্রতিটি পয়েন্টের জন্য লড়াই করার মানসিকতা, সাহসী শট খেলার ক্ষমতা— সবই আছে তাঁর মধ্যে। ভবিষ্যতে আরও বড় তারকা হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

অন্যদিকে, সিনার নিজের কেরিয়ারের টানা পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠলেন। হার্ড কোর্টে টানা ২৬ ম্যাচ জয়ের ধারাও অটুট রাখলেন তিনি। এবার সামনে চেনা প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস আলকারাজ়। ইউএস ওপেনের ফাইনালে ফের মুখোমুখি এই দুই তারকা। টেনিস দুনিয়ার নজর এখন একটাই প্রশ্নে— সিনার কি আবার প্রমাণ করবেন তাঁর আধিপত্য, নাকি আলকারাজ় ফিরিয়ে দেবেন চ্যালেঞ্জের জবাব?

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *