মণিপুরে ধৃত পাঁচ মেইতেই জঙ্গি
শান্তিচুক্তির পরেই মণিপুরে ফের শুরু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া অভিযান। শুক্রবার ভোর থেকে ইম্ফল পূর্ব, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলায় চালানো তল্লাশিতে নিষিদ্ধ মেইতেই জঙ্গি সংগঠন প্রিপাক–এর পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আধাসেনা। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন মহিলা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তোলাবাজি এবং অস্ত্র দেখিয়ে ভয় প্রদর্শনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে।
এমন সময়ে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাত্র একদিন আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার কুকি জঙ্গিগোষ্ঠী ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন এবং ইউনাইটেড পিপল্স ফ্রন্ট–এর সঙ্গে এক বছরের জন্য সংঘর্ষবিরতির চুক্তি করেছে। যদিও মেইতেই সংগঠনগুলির তীব্র আপত্তি ছিল এই চুক্তি নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী এন. বীরেন সিংহকে কার্যত পাশ কাটিয়ে কেন্দ্র কুকিদের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়েছে। তবে নতুন খসড়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মণিপুর ভেঙে আলাদা কুকিল্যান্ড গঠনের দাবি এই চুক্তির আওতায় তোলা যাবে না। একই সঙ্গে কুকি-জ়ো কাউন্সিল ঘোষণা করেছে, জাতীয় সড়ক ২ এখন থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের জন্য খুলে দেওয়া হবে, আর নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা বাহিনীর পাশে দাঁড়াবে।
চুক্তিতে আরও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল থেকে সাতটি শিবির সরানো হবে, কুকি জঙ্গিদের হাতে থাকা সব অস্ত্র নিকটবর্তী কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্পে জমা দিতে হবে। শিবিরগুলির উপর কড়া নজরদারি চলবে এবং বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না। শর্ত ভাঙা হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, প্রয়োজনে চুক্তি বাতিলও হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতেই সমতল অঞ্চলে মেইতেই সশস্ত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন মণিপুর সফরের আগে কেন্দ্র যেকোনওভাবে রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে চাইছে। প্রায় আড়াই বছরের গোষ্ঠীহিংসায় এখনও পর্যন্ত ২০০–র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাননি বলে বারবার সমালোচনায় মুখোমুখি হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের মার্চে মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারকে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের পর থেকেই কুকি সম্প্রদায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করে। এরপর থেকেই রাজ্যে শুরু হয় দাঙ্গা ও হিংসা, যার ফল আজও বহন করছে মণিপুর। পার্বত্য এলাকার অনেক জেলাই এখন কার্যত রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
তবু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন শান্তিচুক্তি। এর ফলে অন্তত রাস্তা খুলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ কিছুটা হলেও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মেইতেই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে চলা এই ধারাবাহিক অভিযানে বোঝা যাচ্ছে, সরকার একই সঙ্গে কুকি ও মেইতেই উভয় গোষ্ঠীর উপর নিয়ন্ত্রণ কড়া করছে।
সব মিলিয়ে শান্তিচুক্তির পর মণিপুরের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। একদিকে অস্ত্র জমা দেওয়ার শর্ত, অন্যদিকে নতুন করে অভিযান— সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ