কংগ্রেস দফতর ভাঙচুরে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ অবশেষে গ্রেফতার

নেতা রাকেশ সিংহ অবশেষে গ্রেফতার কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকে গ্রেফতার হলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ। প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।…

September 3, 2025
1 min read

নেতা রাকেশ সিংহ অবশেষে গ্রেফতার

কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকে গ্রেফতার হলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহ। প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। বুধবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হবে।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই রাকেশের পুত্র শিবম সিংহসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বিজয়প্রসাদ ধানুক, সন্তোষকুমার রাজভর এবং দিব্যেন্দু সামন্তও রয়েছেন। তবে ভাঙচুরের অন্যতম অভিযুক্ত রাকেশ এতদিন অধরা ছিলেন। গ্রেফতারের সময় রাকেশকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হলে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ” এবং “রাকেশ সিংহ কাউকে ভয় পান না।”

গত শুক্রবার সকাল সওয়া ১১টা নাগাদ বিধান ভবনের প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, দফতরে তখন খুব কম কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেই সুযোগে একদল দুষ্কৃতী কংগ্রেস দফতরে হামলা চালায়। কংগ্রেস নেতাদের ছবি পুড়িয়ে দেওয়া হয়, পতাকা পোড়ানো হয় এবং ব্যাপক তাণ্ডব চলে। অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন রাকেশ নিজে এবং তাঁর সমর্থকরা বিজেপির পতাকা হাতে দফতরে প্রবেশ করেন। ঘটনার দিনই তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয় এবং অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয় এন্টালি থানায়। বিজেপি নেতা প্রতীক পান্ডের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে।

হামলার সূত্রপাত হয় ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনা থেকে। সেই দিন বিহারের দ্বারভাঙায় কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলস্বরূপ কলকাতায় কংগ্রেস দফতরে হামলার অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ ঘটনার পর থেকেই রাকেশের খোঁজে তল্লাশি চালায়। তাঁর বাড়িতেও একাধিকবার অভিযান হয়। যদিও রাকেশ গা ঢাকা দেন, তবুও তিনি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। সোমবার তাঁর পুত্র শিবমের গ্রেফতারের পর তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ করেন, তাঁকে ধরতে না পেরে পুলিশ তাঁর ছেলেকে হেনস্থা করেছে। এমনকি তাঁর স্ত্রী এবং কন্যাকে পুলিশ হেনস্থা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সরাসরি কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে হুঁশিয়ারিও দেন রাকেশ। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি।

এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। কংগ্রেস দফতরে হামলার ঘটনায় বিজেপির শীর্ষ নেতাদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। এখন নজর বুধবার আদালতের সিদ্ধান্তে, যেখানে রাকেশের হেফাজতের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *