মাথার দাম ১৩ লক্ষ টাকা
সাধারণের ভিড়ে এমনভাবে মিশে ছিলেন যে কেউই টের পায়নি, মাঝেই লুকিয়ে ছিলেন দুই সক্রিয় মাওবাদী নেতা। চত্তীসগঢ়ের চাঙ্গোরভট্ট এলাকায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা (এসআইএ) গ্রেফতার করে জগ্গু কুরসাম ওরফে রবি ওরফে রমেশ এবং তাঁর স্ত্রী কমলা কুরসামকে। ধৃত দম্পতির combined মাথার দাম ১৩ লক্ষ টাকা—জগ্গুর ৮ লক্ষ এবং কমলার ৫ লক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে একেবারেই মিশে থাকতেন তাঁরা। সকলে ভাবত, তাঁরা শুধুই নির্মাণশ্রমিক। ভাড়া বাড়িতে থাকতেন, সকালে কাজে বের হতেন, সন্ধ্যায় ফিরে আসতেন। দোকান-পাটে খুব কমই দেখা যেত। এই ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে তারা তলায় তলায় সংগঠনের কাজ চালিয়ে আসছিলেন।
এসআইএ-এর আধিকারিকরা জানান, জগ্গু এবং কমলা দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে চলছিলেন। কখনও রায়পুর, কখনও ভিলাই, কখনও দুর্গ—এভাবে নিয়মিতভাবে অবস্থান বদল করতেন। কখনও দিনমজুর, কখনও নির্মাণশ্রমিক—এই ছদ্মবেশে সাধারণের ভিড়ে মিশে যাওয়ায় কারও জন্য তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে ধৃত দম্পতির ভাড়া বাড়ি থেকে ১০ গ্রাম সোনার বিস্কুট, ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা নগদ, দু’টি স্মার্টফোন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, তাদের ফোনের কল রেকর্ড ঘেঁটে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ‘‘স্বামী-স্ত্রী কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না। দোকানের জিনিসও কিনতে আসতেন না। সকালে বের হতেন, সন্ধ্যায় ফিরতেন। কারও সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করতে দেখিনি।’’
জগ্গু মাত্র ১১ বছর বয়সে মাওবাদীদের কাজে যুক্ত হন। দু’দশক ধরে বিজাপুরের জঙ্গলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে লড়াই করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি মাওবাদীদের ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (ডিভিসি) হন। কমলা কুরসামও কিশোরী বয়সেই ২০১৪ সালে মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এরিয়া কমিটি মেম্বার (এসিএম) হন। বিজাপুরের জঙ্গলে দু’জনের প্রথম আলাপ ঘটে, এরপর প্রেম, বিয়ে এবং একসাথে মাওবাদী কার্যক্রমে যুক্ত হন।
পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে বড়সড় সাফল্য মিলেছে। নির্মাণশ্রমিকের ছদ্মবেশে থাকা এই দম্পতি তলায় তলায় মাওবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। এই গ্রেফতারি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জগ্গু ও কমলা কুরসামের এই গ্রেফতারি শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি মাওবাদী নেটওয়ার্কের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রভাব ফেলবে বলে পুলিশের ধারণা।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা