দুই সৎভাইয়ের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ
শিনা বরা হত্যা মামলায় মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে বিধি মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, তাঁর মা ইন্দ্রাণী একসময় সম্পূর্ণ কপর্দকশূন্য হয়ে পড়েছিলেন। কারণ, তাঁর দুই সৎভাই রাহুল এবং রবীন মুখোপাধ্যায় মায়ের জমানো টাকা এবং গয়না আত্মসাৎ করেছিলেন। বিধির অভিযোগ, তাঁরা মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রচনার ষড়যন্ত্রেও যুক্ত ছিলেন।
মুম্বইয়ের সিবিআই বিশেষ আদালতে বিচারপতি জেপি দারেকরের এজলাসে দাঁড়িয়ে বিধি বলেন, “পিটার মুখোপাধ্যায়ের দুই ছেলে মায়ের সবকিছু চুরি করেছিলেন। তাঁরা মরিয়া ছিলেন যাতে মা কখনও জেল থেকে বেরোতে না পারেন।” তাঁর দাবি, দুই সৎভাইয়ের আর্থিক অবস্থা তখন খুব খারাপ ছিল। রাহুল ছিলেন বেকার, আর রবীনও চরম সঙ্কটে ছিলেন।
২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল শিনা নিখোঁজ হন। সিবিআইয়ের দাবি, ইন্দ্রাণী, তাঁর প্রাক্তন স্বামী সঞ্জীব খন্না এবং ড্রাইভার শ্যামবর রাই মিলে শিনাকে খুন করেন এবং দেহটি মহারাষ্ট্রের পেন গ্রামে পুড়িয়ে দেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৫ সালে এই মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শ্যামবরকে গ্রেফতার করে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরে পিটার মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেফতার করা হয়। তবে ইন্দ্রাণী ও পিটার বরাবর দাবি করে এসেছেন, শিনা বেঁচে আছেন এবং বিদেশে থাকেন।
বিধি আদালতে জানান, তিনি শেষবার শিনাকে দেখেছিলেন ২০১১ সালে গোয়ায় একটি বিয়েবাড়িতে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তাঁদের ইমেল যোগাযোগ ছিল। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, ওই ইমেল ইন্দ্রাণী নিজেই পাঠাতেন যাতে বোঝানো যায় শিনা জীবিত। বিধি তা মানতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিবৃতি জাল করা হয়েছে। সিবিআই অফিসে আমাকে কিছু ইমেল এবং সাদা কাগজে সই করাতে বাধ্য করা হয়েছিল। চার্জশিটে যে বিবৃতি দেখানো হচ্ছে, তা আমি দিইনি।” তাঁর দাবি, তাঁর বাবা-মা সঞ্জীব খন্না এবং ইন্দ্রাণীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্যই এই নথি তৈরি হয়েছে।
বিধি আদালতে আরও জানান, মায়ের গ্রেফতারির পর তাঁর সৎবাবা পিটার মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের আচরণ ছিল ভয়াবহ। আত্মীয়স্বজনেরা ইন্দ্রাণীর জিনিসপত্র লুঠপাট করতেন। এমনকি, সুগন্ধির বোতল, ব্যাগের জন্যও লড়াই হতো। রবীন তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন যে তাঁকে হয় মুখার্জি বংশ, নয়তো মায়ের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে, না হলে তিনি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন। বিধির দাবি, মায়ের গয়না চুরি হওয়ার পরে রাহুল এবং রবীনের নামে নতুন ব্যাঙ্ক লকারও খোলা হয়েছিল।
এই সাক্ষ্য মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, বিধির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে তদন্তে হয়তো অনেক তথ্য চাপা দেওয়া হয়েছে। সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরির অভিযোগ মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলছে।
২৫ বছরের শিনা মুম্বইয়ে চাকরি করতেন। তাঁর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ভারতীয় সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ইন্দ্রাণীর মেয়ে আজও মনে করেন, তাঁর মা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আদালতে বিধি বলেন, “এই ঘটনার ট্রমা এখনও আমাকে তাড়া করে। আমি সত্যিই ন্যায়বিচার চাই।”
এই মামলায় পরবর্তী শুনানি হবে শিগগিরই। এখন সবার নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ