মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে লুকোনো কারণ: দুশ্চিন্তার চেয়ে বেশি দায়ী জলের ঘাটতি

মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে লুকোনো কারণ! দিনভর কাজের চাপ, সংসারের দায়িত্ব আর নানা দুশ্চিন্তায় মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে—এমনটা অনেকেই অনুভব করেন। সাধারণত আমরা ধরে নিই মানসিক চাপের প্রধান কারণ হলো উদ্বেগ,…

September 2, 2025
1 min read

মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে লুকোনো কারণ!

দিনভর কাজের চাপ, সংসারের দায়িত্ব আর নানা দুশ্চিন্তায় মানসিক চাপ বেড়েই চলেছে—এমনটা অনেকেই অনুভব করেন। সাধারণত আমরা ধরে নিই মানসিক চাপের প্রধান কারণ হলো উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বা কাজের চাপ। কিন্তু গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এর পেছনে আরও এক অদৃশ্য শারীরিক কারণও থাকতে পারে—ডিহাইড্রেশন বা শরীরে জলের ঘাটতি।

সম্প্রতি অ্যাপ্লায়েড ফিজিওলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীরে কর্টিসল নামের ‘স্ট্রেস হরমোন’-এর মাত্রা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে দেড় লিটারের কম জল পান করেন, তাদের মধ্যে মানসিক চাপের মাত্রা অনেক বেশি। অন্যদিকে, যারা প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার জল পান করেন, তারা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শান্ত ও ফুরফুরে থাকেন।

ইংল্যান্ডের লিভারপুল জন মোরিস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছেন। তাদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে ইলেক্ট্রোলাইট বা খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কমে গেলে মস্তিষ্কের কোষে অক্সিজেন পৌঁছানো কমে যায়, যা কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। এই হরমোন মানসিক চাপ ও উদ্বেগের অন্যতম কারণ।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। এক দলকে দিনে দেড় লিটার জল খাওয়ানো হয়, আরেক দলকে দেওয়া হয় তিন লিটার জল ও তরল খাবার। মাসখানেক পর দেখা যায়, বেশি জলপান করা ব্যক্তিরা সতেজ, উদ্যমী ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল। অন্যদিকে, কম জল খাওয়া দলের মানুষদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা বেড়েছে, এমনকি কেউ কেউ প্যানিক অ্যাটাকেও আক্রান্ত হয়েছেন।

শরীরে জলের ঘাটতি হলে ভ্যাসোপ্রেসিন নামের আরও একটি হরমোন সক্রিয় হয়। এটি জল-খনিজের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে, কিন্তু এর ফলে কর্টিসলের মাত্রা আরও বাড়ে। এই প্রক্রিয়াই দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপকে আরও তীব্র করে তোলে।

গবেষকেরা বলছেন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ধ্যান, ব্যায়াম বা মানসিক প্রশান্তির কৌশল যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত জলপানও সমান জরুরি। প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার জলপান করলে শরীর ও মন দুই-ই অনেক বেশি সুস্থ থাকে। তাই ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ সামলানোর পাশাপাশি সঠিক জলপানের অভ্যাস গড়ে তোলাও মানসিক সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি।

চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *