দাগি না কি অবিচারের শিকার? এসএসসি পরীক্ষায় বসার দাবিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ অযোগ্য প্রার্থীরা

এসএসসি পরীক্ষায় বসার দাবিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ অযোগ্য প্রার্থীরা স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ‘দাগি অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশের পরেই তা নিয়ে উঠল নতুন প্রশ্ন। যারা তালিকাভুক্ত হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, তারাই এখন…

September 1, 2025
1 min read

এসএসসি পরীক্ষায় বসার দাবিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ অযোগ্য প্রার্থীরা

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ‘দাগি অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশের পরেই তা নিয়ে উঠল নতুন প্রশ্ন। যারা তালিকাভুক্ত হয়ে চাকরি হারিয়েছেন, তারাই এখন আদালতের দ্বারস্থ। অভিযোগ, এই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ এবং অন্যায্য। তাই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে তাঁরা দাবি তুলেছেন, আসন্ন পরীক্ষায় বসার সুযোগ তাঁদের দেওয়া হোক।

গত ২৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নিতে হবে এসএসসি-কে। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল, যাতে কোনও ‘দাগি অযোগ্য’ পরীক্ষায় না বসতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই নির্দেশের পরেই কমিশন প্রকাশ করে ১৮০৪ জন প্রার্থীর নামের তালিকা। পরের দিন আরও দু’জনের নাম যুক্ত করে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮০৬-এ। এই তালিকাভুক্তদের একাংশ সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে গিয়ে দাবি জানান, তাঁদের ‘দাগি’ বলে চিহ্নিত করা হলেও তা কী ভিত্তিতে করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

মামলাকারীদের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী তো ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ উভয় তালিকাই প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। তাহলে কেন শুধুমাত্র ‘দাগি অযোগ্য’দের নাম প্রকাশ করা হলো? যদি তাঁরা সত্যিই অযোগ্য হন, তবে কেন পরীক্ষার ফর্ম জমা দেওয়ার সময় তাঁদের আটকানো হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে আদালতে।

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সিবিআই তদন্তের ভিত্তিতে একাধিক নথি ও উত্তরপত্র থেকে এই প্রার্থীদের ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট ২৬ হাজার চাকরি বাতিল করার রায়ে জানিয়েছিল, চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না এবং তাঁদের চাকরির বেতন ফেরত দিতে হবে। এর পরেই নতুন করে নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

তবে ‘দাগি’ প্রার্থীরা দাবি করেছেন, তাঁরা অন্যায়ের শিকার। আদালতের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ চান। এক প্রার্থীর কথায়, “আমাদের না শোনা হয়েই দোষী ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা কেন সুযোগ পাব না?”

এই মামলা এখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে মঙ্গলবার। মামলাটি কেবল প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নিয়োগ দুর্নীতির ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে জর্জরিত এসএসসি কি এবার ন্যায়সঙ্গত সমাধান দিতে পারবে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *