সীমান্তে শান্তি ও বাণিজ্যে ভারসাম্য: ভারত-চিন সম্পর্ক দৃঢ় করতে শি জিনপিংয়ের চার পরামর্শ

ভারত-চিন সম্পর্ক দৃঢ় করতে শি জিনপিংয়ের চার পরামর্শ ভারত ও চিনের সম্পর্ক বরাবরই জটিল। সীমান্তে সংঘাত থেকে শুরু করে বাণিজ্যে বিপুল ঘাটতি—দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে…

September 1, 2025
1 min read

ভারত-চিন সম্পর্ক দৃঢ় করতে শি জিনপিংয়ের চার পরামর্শ

ভারত ও চিনের সম্পর্ক বরাবরই জটিল। সীমান্তে সংঘাত থেকে শুরু করে বাণিজ্যে বিপুল ঘাটতি—দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দিলেন চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, যা দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। রবিবার ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী এই বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বৈঠকে শি জিনপিং প্রথমেই কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, একে অপরের প্রতি আস্থা তৈরি না হলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন, সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করতে হবে। তবেই উভয় দেশ সমানভাবে লাভবান হবে। তৃতীয়ত, দুই দেশকে একে অপরের সমস্যার সময় পাশে দাঁড়াতে হবে এবং উদ্বেগের বিষয়গুলিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চতুর্থত, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সহযোগিতাও বাড়াতে হবে, যাতে উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

বৈঠকে উঠে আসে ভারত-চিন বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গও। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি পৌঁছেছে প্রায় আট লক্ষ কোটি টাকায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ভারত চিন থেকে যতটা আমদানি করছে, রপ্তানি করছে তার তুলনায় অনেক কম। এই অসমতা দূর করতে লেনদেন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্যের পথ সহজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুই দেশই মনে করছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভারত ও চিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘাতের পর থেকে সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানই মেনে নেন, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। সীমান্তে স্থিতিশীলতা না এলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি সম্ভব নয়। শি জিনপিং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমেই উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

এই বৈঠকটি হয়েছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলনের ফাঁকে। রবিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন মোদী। এরপর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন দিশা দিতে পারে। বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে। দুই দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারত ও চিন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক শুধু দুই দেশের নয়, প্রায় ২৮০ কোটিরও বেশি মানুষের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই বৈঠক তাই শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং এক নতুন সহযোগিতার দিশা দেখানোর সম্ভাবনা বহন করছে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *