টানা তিন বছর কমছে স্কুলে ভর্তি! সরকারি স্কুলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি, বেসরকারি স্কুলে রেকর্ড বৃদ্ধি

সরকারি স্কুলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি, বেসরকারি স্কুলে রেকর্ড বৃদ্ধি টানা তিন বছর ধরে দেশে স্কুলে ছাত্রছাত্রীর ভর্তি হ্রাস পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এই তথ্য। প্রাক-প্রাথমিক…

September 1, 2025
1 min read

সরকারি স্কুলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি, বেসরকারি স্কুলে রেকর্ড বৃদ্ধি

টানা তিন বছর ধরে দেশে স্কুলে ছাত্রছাত্রীর ভর্তি হ্রাস পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এই তথ্য। প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে মোট ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪.৬৯ কোটি, যা গত বছরের তুলনায় ১১ লাখ কম। আশ্চর্যের বিষয়, মেয়েদের ভর্তি সামান্য বেড়েছে, কিন্তু ছেলেদের ভর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষেও স্কুলে ভর্তি সংখ্যা হ্রাস পেয়ে হয়েছিল ২৫.১৮ কোটি। তখন করোনাকালীন পরিস্থিতিকে দায়ী করা হয়েছিল। ধারণা ছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভর্তি ফের বাড়বে, কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটেছে। গত তিন বছরে মোট ভর্তি কমেছে প্রায় ৫০ লাখ।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিকের মতে, অতিমারির পর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যার ফলে অনেক নামের পুনরাবৃত্তি বাদ গিয়েছে। জন্মহারে পতনকেও ভর্তির হ্রাসের একটি বড় কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছে। তবে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে জনগণনার পর।

রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারি এবং সরকার-পোষিত স্কুলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০২২-২৩ সালে যেখানে এই স্কুলগুলোয় ভর্তি ছিল ১৩.৬২ কোটি, ২০২৪-২৫-এ তা নেমে এসেছে ১২.১৬ কোটিতে। অপরদিকে বেসরকারি স্কুলের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তিন বছরে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি বেড়ে হয়েছে ৯.৫৯ কোটি এবং নতুন করে প্রায় ৪৮ হাজার বেসরকারি স্কুল চালু হয়েছে, অথচ একই সময়ে বন্ধ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার সরকারি স্কুল। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩৯ শতাংশ ছাত্রছাত্রী পড়ছে বেসরকারি স্কুলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি স্কুলে পরিকাঠামো, শিক্ষক সংকট, আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, কেন্দ্রের ২০২০ সালের নয়া শিক্ষানীতি এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। তারা মনে করছেন, গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি হ্রাস পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। যদিও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু আগে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়াশোনা করেছে। নবম-দশম শ্রেণিতে স্কুলছুটের হারও বেড়েছে, যা শিক্ষা মহলে আরও উদ্বেগের কারণ।

শিক্ষক সৌদীপ্ত দাস বলেন, “পঠনপাঠনের ধরনকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে, পাশাপাশি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।”

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মিড-ডে মিল, পোশাক, সাইকেলের মতো সুবিধা সত্ত্বেও যদি সরকারি স্কুলের প্রতি আস্থা কমে যায়, তবে তা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় সংকেত। এই প্রবণতা রুখতে সরকারি শিক্ষার মান উন্নয়নই একমাত্র পথ।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *