জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী: বুলেট ট্রেন থেকে কৌশলগত অংশীদারি, কী কী বিষয়ে হবে আলোচনা

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুই দিনের সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন। শনিবার পর্যন্ত তিনি ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’-এ থাকবেন এবং সেখান থেকেই রওনা দেবেন চিনে, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন…

August 29, 2025
1 min read

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুই দিনের সরকারি সফরে জাপানে পৌঁছেছেন। শনিবার পর্যন্ত তিনি ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’-এ থাকবেন এবং সেখান থেকেই রওনা দেবেন চিনে, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে। চিন সফরের আগে জাপান সফরকে নয়াদিল্লি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। এই সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। ভারত এবং জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারি রয়েছে, যা এই বৈঠকের মাধ্যমে আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে একাধিক সমঝোতা চুক্তি (MoU) এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে স্বাক্ষর হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল উন্নত মানের বুলেট ট্রেন প্রকল্প। সূত্রের খবর, ই১০ শিনকানসেন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যৌথভাবে বুলেট ট্রেন তৈরি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চূড়ান্ত হতে পারে। পাশাপাশি, ভারতে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও টোকিয়োর শিল্পমহলের সঙ্গে কথা বলবেন মোদী। অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাও এই সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে চলেছে।

বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ভারতের উপর চাপ বাড়ছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বহু পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানি বাজারে টান পড়েছে। নয়াদিল্লি এখন বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে, যেখানে কম বা শূন্য শুল্কে পণ্য বিক্রির সুযোগ রয়েছে। জাপান সেই সম্ভাব্য বাজারগুলির মধ্যে অন্যতম।

ভারতে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সিবি জর্জ জানিয়েছেন, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনায় সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ‘কোয়াড’ নিয়ে আলোচনা হবে। ভারত, জাপান, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া মিলে গঠিত এই চতুর্দেশীয় অক্ষ মূলত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেজিংয়ের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি যদিও নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটনের অংশীদারিত্বে কিছুটা প্রভাব ফেলছে, তবু ভারত জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির উন্নয়নে যৌথ গবেষণা ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা অংশীদারি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, শেষবার মোদী জাপান সফর করেছিলেন ২০১৮ সালে। সাত বছর পর তাঁর এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশই। একদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের মতো মেগা উদ্যোগ, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক কৌশল ও বাণিজ্য সহযোগিতা—সব মিলিয়ে এই সফর ভারত-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোদীর সফরের শুরুতেই জাপানে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি দেশপ্রেম এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। আগামী দুই দিনে টোকিয়ো ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে দুই দেশ।

ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে সহজ জয় রাডুকানু ও আজ়ারেঙ্কার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *