নরেন্দ্র মোদীর মতো যোগাসন!
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এ কলকাতার রেড রোডে যোগাভ্যাস করে দেশবাসীকে সুস্থ জীবনের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। এ বছরের থিম ছিল ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’, অর্থাৎ বার্ধক্যেও শরীর ও মনকে সুস্থ, সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত রাখার উপায় হিসেবে যোগচর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী যে পাঁচটি যোগাসন ও প্রাণায়াম করে দেখিয়েছেন, সেগুলির নিয়ম ও উপকারিতা জেনে নেওয়া যাক।
১. ত্রিকোণাসন
এই আসনে দুই পায়ের মাঝে ফাঁক রেখে দাঁড়িয়ে শরীরকে এক দিকে বাঁকাতে হয়। এক হাত পায়ের গোড়ালি বা পায়ের পাতার দিকে নামাতে হয় এবং অন্য হাত সোজা উপরের দিকে তুলতে হয়।
উপকারিতা:
- পা, কোমর, পিঠ ও কাঁধের পেশি শক্তিশালী হয়
- শরীরের নমনীয়তা বাড়ে
- হজমশক্তি উন্নত হয়
- কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে
- রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়
- পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সহায়ক
২. তাড়াসন
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাত দু’টি মাথার উপর তুলতে হয় এবং গোড়ালি মাটি থেকে তুলে শরীরের ভার পায়ের আঙুলের উপর রাখতে হয়।
উপকারিতা:
- শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখে
- ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে
- পায়ের শক্তি বৃদ্ধি করে
- হজমশক্তি উন্নত করে
- মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
- স্নায়ুর উত্তেজনা প্রশমিত করে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্কদের জন্য এই আসন অত্যন্ত উপকারী।
৩. স্কন্ধ চক্রাসন
কাঁধের উপর হাত রেখে কনুইকে বৃত্তাকারে সামনে ও পিছনে ঘোরানো হয়। বসে বা দাঁড়িয়ে এই ব্যায়াম করা যায়।
উপকারিতা:
- কাঁধ ও ঘাড়ের জড়তা দূর করে
- মেরুদণ্ড সংলগ্ন পেশির কার্যকারিতা বাড়ায়
- স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে
- দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে হওয়া ব্যথা কমায়
- কাঁধ ও ঘাড়ের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে
৪. গ্রীবা প্রসারণ (নেক স্ট্রেচ)
শরীর সোজা রেখে ধীরে ধীরে মাথা ডান ও বাঁ কাঁধের দিকে ঝুঁকিয়ে এই ব্যায়াম করতে হয়।
উপকারিতা:
- ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা কমায়
- মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা হ্রাস করতে সাহায্য করে
- মনোযোগ বাড়ায়
- অনিদ্রার সমস্যা কমাতে সহায়ক
- দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ উপকারী
৫. নাড়িশোধন প্রাণায়াম
এক নাসারন্ধ্র বন্ধ রেখে অন্য নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে এই প্রাণায়াম করা হয়। পরে একই পদ্ধতি অন্য নাসারন্ধ্রে প্রয়োগ করতে হয়।
উপকারিতা:
- ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে
- হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় উপকারী
- মানসিক চাপ কমায়
- স্মৃতিশক্তি ও মনঃসংযোগ বৃদ্ধি করে
- অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে
যোগাভ্যাস কেন জরুরি?
নিয়মিত যোগচর্চা শরীর ও মন— দুইকেই সুস্থ রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে শারীরিক ও মানসিক সমস্যাগুলি দেখা দেয়, সেগুলিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে যোগাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও যোগাভ্যাস করলে শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য, শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা এবং মানসিক স্থিতি উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত হয়।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তাও ছিল একটাই— সুস্থ, সক্রিয় ও দীর্ঘ জীবনযাপনের জন্য যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলুন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?