প্রণামীবাক্সের অর্থ ঈশ্বরের সম্পত্তি, সরকারি কাজে ব্যবহার নয়: মাদ্রাস হাই কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ

মাদ্রাস হাই কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ মন্দিরের প্রণামীবাক্সে জমা পড়া অর্থ জনগণের নয়, তা সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের সম্পত্তি— এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল মাদ্রাস হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মন্দিরের তহবিল কখনই…

August 29, 2025
1 min read

মাদ্রাস হাই কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ

মন্দিরের প্রণামীবাক্সে জমা পড়া অর্থ জনগণের নয়, তা সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের সম্পত্তি— এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল মাদ্রাস হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মন্দিরের তহবিল কখনই সরকারি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে না। এই অর্থ শুধুমাত্র ধর্মীয় ও মন্দির-সংক্রান্ত কাজে ব্যয় করতে হবে।

তামিলনাড়ু সরকার সম্প্রতি মন্দিরের তহবিল ব্যবহার করে বিয়ের হল তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং সেই বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকাও জারি হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের হলে মাদ্রাস হাই কোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ তা খারিজ করে দেয়। বিচারপতি এসএম সুব্রহ্মণ্যম এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগানের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে বলেন, “যে কোনও মন্দিরে ভক্তরা ঈশ্বরের নামে যে অর্থ বা সম্পত্তি দান করেন, তার প্রকৃত মালিক হলেন ঈশ্বর। মন্দির কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, তাই এর অর্থ কেবল হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য অনুদান আইনে উল্লিখিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা উচিত।”

আদালতের এই মন্তব্যের ফলে মন্দিরের তহবিলকে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহারের পথ বন্ধ হয়ে গেল। বিচারপতিরা আরও জানান, মন্দিরের প্রণামীবাক্সে জমা হওয়া অর্থকে জনসাধারণের করের অর্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। এই দান সরাসরি ঈশ্বরের উদ্দেশে, তাই তা ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, মন্দিরের উন্নয়ন, এবং ধর্মীয় সেবায় ব্যয় করা বাধ্যতামূলক।

তামিলনাড়ু সরকারের উদ্যোগটি প্রথম থেকেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, মন্দিরের দানপত্রে ভক্তদের আবেগ জড়িত থাকে, তাই তা অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা নৈতিকভাবে সঠিক নয়। আদালতের রায়ে এই বিতর্কে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেল যে, মন্দিরের অর্থ কেবল ধর্মীয় উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

মাদ্রাস হাই কোর্টের এই রায় শুধু তামিলনাড়ুই নয়, সারা দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। বহু রাজ্যে মন্দির প্রশাসন সরকার পরিচালিত হলেও এই রায় জানিয়ে দিল, ভক্তদের দানকৃত অর্থের মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে নয়, তা ঈশ্বরের সম্পত্তি।

আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখবে এবং মন্দিরের তহবিল অপব্যবহার রুখতে সহায়তা করবে। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট, মন্দিরের অর্থ ব্যবহার করতে হবে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের সুবিধার্থে।

এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে মন্দিরের দানপত্রকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আরও কমবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। মাদ্রাস হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত ভক্তদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ছবিমুক্তির আগেই কোটির ঘরে নন্দিতা-শিবপ্রসাদ! টলিউডে বাজিমাত এই জুটির

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *