মোদীর দমদম সভায় লকেটের অনুপস্থিতি!
বঙ্গ বিজেপির রাজ্য রাজনীতিতে তিনি অন্যতম পরিচিত মুখ। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও পরিচিত লকেট চট্টোপাধ্যায়। তবে গত শুক্রবার দমদমে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা— কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়নি হুগলির প্রাক্তন সাংসদকে?
দলীয় সূত্রে খবর, মোদীর সভায় লকেটকে না দেখে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঞ্চ থেকেই তাঁকে ফোন করেন। লকেট নাকি তখনই শমীককে জানান, তিনি কোনও আমন্ত্রণপত্র বা বার্তা পাননি। সূত্রের আরও দাবি, এই গরহাজিরা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকেও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
সাধারণত বিজেপির বড় মাপের সভা বা কর্মসূচিতে রাজ্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দমদমের এই সভাও সেই ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে রাজ্য বিজেপিতে পাঁচজন সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন— লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো এবং দীপক বর্মণ। দুর্গাপুরে গত মাসে মোদীর কর্মসূচিতে এই পাঁচজনের মধ্যে লকেট-সহ চারজন উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু এবার দমদমের সভায় দেখা যায় কেবল জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে। অগ্নিমিত্রা পাল অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় যোগ দিতে পারেননি। বাকি তিনজন— লকেট, জ্যোতির্ময় এবং দীপকও সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। এতে আরও প্রশ্ন উঠেছে, কেন শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশকে বাদ দেওয়া হল।
বিজেপি ও সঙ্ঘের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রথা প্রচলিত— ‘যাহাঁ অপেক্ষিত, ওয়াহাঁ উপস্থিত।’ অর্থাৎ, যেখানে উপস্থিতির আশা করা হয়, সেখানে নেতারা উপস্থিত থাকেন। লকেট জানিয়েছেন, যেহেতু কোনও আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি, তাই তিনি যাননি। এই বিষয়টি নিয়ে শমীক বা লকেট— দু’জনের কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।
দলীয় অন্দরে অনেকেই মনে করছেন, এই অনুপস্থিতি শুধুই ভুল যোগাযোগের ফল, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দলের ভিতরে চলা অন্দরের অসন্তোষের ইঙ্গিত। মোদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সভায় লকেটের ডাক না পাওয়া নিঃসন্দেহে বঙ্গ বিজেপির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।