বুথ বাড়ছে বাংলায়!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মঞ্চে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বিধানসভা ভোটের আগে আরও প্রায় ১৪ হাজার বুথ বাড়তে চলেছে রাজ্যে। বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার বুথ থাকলেও, নতুন বুথ যুক্ত হলে সেই সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৯৪ হাজারে। ফলে বুথ ব্যবস্থাপনায় বিরোধী শিবিরে চাপ বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
যে সব বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেই বুথ ভাগ করে তৈরি হবে নতুন বুথ। ইতিমধ্যেই এই ধরনের বুথ চিহ্নিতও করে ফেলেছে কমিশন। আসন্ন ২৯ অগস্ট সর্বদলীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর শেষে বুথের সংখ্যা খানিক কমতেও পারে। তবু এখনই বুথসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই। বরং শাসকদলের নেতারা বিষয়টিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের দাবি, সংগঠনের শক্তি শুধু তৃণমূলের কাছেই আছে, অন্য কোনও দল সব বুথ সামলানোর মতো সক্ষম নয়। তাই নতুন বুথ তৈরি হলে বিরোধীরা আরও কোণঠাসা হবে। তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের কথায়, “সব বুথে লোক দেওয়ার মতো শক্তি একমাত্র তৃণমূলেরই আছে। খাতায়কলমে বিরোধীরা অনেক দাবি করলেও বাস্তবে তাঁদের অবস্থাই বলে দিচ্ছে আসল ছবি।”
অন্যদিকে বিজেপি অবশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাবে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “তিন মাস অপেক্ষা করুন, দেখবেন তৃণমূলই বুথে এজেন্ট খুঁজে পাবে না। ২০২৬-এর নির্বাচন হবে তৃণমূলকে বিদায় দেওয়ার লড়াই।” তবে বিজেপি নিজেই সব বুথে এজেন্ট দিতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নে তিনি সাফ জবাব দিয়েছেন— “আমাদেরটা আমরা ঠিক বুঝে নেব।”
বাম শিবিরও দাবি করছে, তাদের সংগঠনে বুথ স্তরে লোকের অভাব নেই। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, এতদিন তৃণমূল পুলিশ ও প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের বুথে বসতে দেয়নি। তাঁর মতে, “যেখানে বুথ দখল করা সম্ভব হয়নি, সেখানেই গণনা কেন্দ্র দখল করেছে তৃণমূল। তবে ছবিটা বদলাচ্ছে।”
কংগ্রেস অবশ্য বাস্তব পরিস্থিতি মানতে পিছপা হয়নি। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরীর স্বীকারোক্তি, সংগঠনের দুর্বলতার কারণেই মানুষের ক্ষোভ ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, “বুথ সংখ্যা বাড়লে আমাদের চাপ আরও বাড়বে, এটা স্বীকার না করলেই নয়।”
রাজনীতির কারবারিরা বলেন, ভোটের দিনটাই আসল পরীক্ষা। যত বড় মিছিল বা জমায়েতই হোক না কেন, বুথ স্তরে শক্তি না থাকলে ফলাফলে তা প্রতিফলিত হয় না। নতুন বুথ বাড়ার ফলে প্রতিটি দলে নতুন বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) নিয়োগের দায়িত্বও বাড়বে। অনেকে মনে করছেন, যে দল যত বেশি বুথে বিএলএ নিয়োগ করতে পারবে, তাদের সংগঠন ততটাই শক্তিশালী বলে ধরা হবে।
সব মিলিয়ে, বুথ বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে শাসক তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী হলেও, বিরোধীদের কাছে এটি এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল। এখন দেখার, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে কোন দল কতটা সংগঠনিক শক্তি জোগাড় করতে পারে।
ট্রোলের জবাবে মৌনী রায়: ‘‘ভালবাসা শিখুন, নয়তো জীবন ব্যর্থ’’