হাজার কেজি আম দিয়ে আবারও বাংলায় ‘আম-কূটনীতি’, এবার ইউনূসের তরফে মোদী ও মমতাকে উপহার

হাজার কেজি আম দিয়ে আবারও বাংলায় ‘আম-কূটনীতি’! বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে ‘আম-কূটনীতি’ নতুন কিছু নয়। বছরের এই সময়টায়, বিশেষত জুন-জুলাই মাসে, ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি কিংবা কলকাতায় উপহার হিসেবে আম পাঠানো…

July 14, 2025
1 min read

হাজার কেজি আম দিয়ে আবারও বাংলায় ‘আম-কূটনীতি’!

বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে ‘আম-কূটনীতি’ নতুন কিছু নয়। বছরের এই সময়টায়, বিশেষত জুন-জুলাই মাসে, ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি কিংবা কলকাতায় উপহার হিসেবে আম পাঠানো একটা দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। আগে শেখ হাসিনার সরকারের সময় এই রীতি ছিল; এবার সেই ধারাই বজায় রাখলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

এ বছরও সেই মিষ্টি রীতির ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশের বিখ্যাত হাড়িভাঙা জাতের প্রায় হাজার কেজি আম পাঠানো হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। শুধু মোদী নন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একইভাবে আম পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ত্রিপুরাতেও বাংলাদেশের এই আম যাচ্ছে বলে জানা গেছে। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের দূতাবাস সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করেছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম।

এই বছর পাঠানো হাড়িভাঙা আম বিশেষত রংপুর অঞ্চলের। ওজনে গড়ে ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম। সুস্বাদু, রসালো এবং আঁশবিহীন হওয়ায় শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত সহ আন্তর্জাতিক বাজারেও এই আমের বিশেষ কদর রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছরই এই আমকে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে পাঠায়।

২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। গণবিক্ষোভের জেরে হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং বর্তমানে তিনি ভারতে রয়েছেন বলে জানা যায়। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছেন ইউনূস। আগামী বছরে সেখানে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসিনা সরকারের পরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নিয়ে নয়াদিল্লি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পাশাপাশি ঢাকার তরফে হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে ইউনূস চিন সফর সেরে এসেছেন এবং গত এপ্রিল মাসে ব্যাংককে বিমস্টেক সম্মেলনে মোদীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎও হয়েছে তাঁর। সেই সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল ভবিষ্যৎ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ।

এর ঠিক পরপরই হাজার কেজি আম পাঠানোর এই কূটনৈতিক বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এটা শুধু একটি ফল উপহার দেওয়া নয়, বরং সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার এবং পুরনো বন্ধুত্বের সেতু রক্ষার এক শান্ত বার্তা।

বাংলাদেশের নতুন শাসকদের তরফে এই বন্ধুত্বপূর্ণ আম উপহার—তা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং ভারতের মূল ভূখণ্ড—সব জায়গাতেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। আগামী দিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এই মিষ্টি হাড়িভাঙা আম সেই সম্পর্কেরই রসালো সাক্ষী।

বিমানে জ্বালানির সুইচ ত্রুটি! এফএএ সতর্ক করেছিল সাত বছর আগে, গুরুত্ব দেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *