কিডনির ক্রনিক রোগে বেশি ভোগেন মেয়েরা: সতর্ক হওয়ার সময় এখনই

কিডনির ক্রনিক রোগে বেশি ভোগেন মেয়েরা! কিডনির অসুখ নিঃশব্দ ঘাতকের মতো শরীরে বাসা বাঁধে। প্রথমদিকে বোঝা যায় না বললেই চলে। অথচ সময়মতো সতর্ক না হলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের…

August 18, 2025
1 min read

কিডনির ক্রনিক রোগে বেশি ভোগেন মেয়েরা!

কিডনির অসুখ নিঃশব্দ ঘাতকের মতো শরীরে বাসা বাঁধে। প্রথমদিকে বোঝা যায় না বললেই চলে। অথচ সময়মতো সতর্ক না হলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, আর্থ-সামাজিক কারণও এর নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখে।

কেন মেয়েরা বেশি ভোগেন?

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতি বছর পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৬ লক্ষ মহিলা ক্রনিক কিডনি রোগে প্রাণ হারান। এর প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস। অনেক সময় মহিলারা জানতেও পারেন না যে তাঁদের এই রোগ হয়েছে। যখন ধরা পড়ে, তখন কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

বিশেষত প্রত্যন্ত এলাকায় মহিলারা খুব গুরুতর অসুস্থ না হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়ে না। পাশাপাশি লুপাস নেফ্রাইটিস নামের অটোইমিউন রোগ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রক্তচাপের ওঠানামা—সব মিলিয়েই কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।

কোন কোন লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়?

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা – বিশ্রামের পরও যদি ক্লান্তি না কাটে, সতর্ক হওয়া জরুরি।
  • পায়ের পাতায় বা চোখের নিচে ফোলা – শরীরে জল জমার ইঙ্গিত হতে পারে।
  • প্রস্রাবের সমস্যা – বারবার প্রস্রাবের প্রবণতা, প্রস্রাবে জ্বালা বা রঙের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে হেলাফেলা করা উচিত নয়।
  • উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকা – এগুলি কিডনি রোগের প্রধান কারণ।
  • অ্যাপেটাইট কমে যাওয়া, বমি ভাব – কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

এই উপসর্গগুলিকে অবহেলা করলে রোগ দ্রুত বাড়তে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

কীভাবে কিডনিকে সুস্থ রাখবেন?

কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য বড় কোনও জটিল পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই, বরং দৈনন্দিন অভ্যাসেই লুকিয়ে রয়েছে সমাধান।

  • পর্যাপ্ত জল পান করুন – শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিদিন সঠিক পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন – নিয়মিত শরীরচর্চা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনির সুরক্ষায় সাহায্য করে।
  • লবণ ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান – এগুলি রক্তচাপ বাড়িয়ে কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
  • ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন – নিয়মিত চেকআপ এবং ওষুধের মাধ্যমে এগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনি বাঁচানোর মূল উপায়।
  • অপ্রয়োজনে ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলুন – বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধ অতিরিক্ত খেলে কিডনির ক্ষতি হয়।

শেষ কথা

মহিলাদের জীবনে পরিবার ও কাজের চাপের কারণে নিজেদের দিকে মন দেওয়ার সময় অনেক সময়ই থাকে না। কিন্তু নিজের শরীরের যত্ন না নিলে পরবর্তীতে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ছোটখাটো উপসর্গ অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং সঠিক জীবনযাপনই পারে কিডনিকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে।

মুম্বই বিমানবন্দরে অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ইন্ডিগো বিমানের যাত্রীরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *