মানুষের শরীরে একসঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন! চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক চিনের গবেষণায়

মানুষের শরীরে একসঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন! অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জগতে আরও এক বড় সাফল্যের দাবি করলেন চিনের গবেষকেরা। প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির শরীরে একই সঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি…

June 9, 2026
1 min read

মানুষের শরীরে একসঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন!

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জগতে আরও এক বড় সাফল্যের দাবি করলেন চিনের গবেষকেরা। প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির শরীরে একই সঙ্গে শূকরের দু’টি কিডনি এবং একটি সম্পূর্ণ লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিস্থাপিত অঙ্গগুলি টানা পাঁচ দিনেরও বেশি সময় কার্যকর ছিল বলেও দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই সাফল্য ভবিষ্যতে অঙ্গ-সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাণীর অঙ্গ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের চেষ্টা নতুন নয়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার এক ব্যক্তির শরীরে শূকরের হৃদ্‌যন্ত্র বসানো হয়েছিল। পরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়েও একাধিক পরীক্ষা হয়েছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে সেগুলির সবকটি সফল হয়নি, তবুও গবেষণা থেমে থাকেনি।

সম্প্রতি চিনের Guangxi Medical University-এর গবেষকেরা জিনগতভাবে পরিবর্তিত শূকরের দু’টি কিডনি এক ব্রেন-ডেড ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। ওই ব্যক্তি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর নিজের কিডনিও কার্যত অকেজো হয়ে গিয়েছিল। গবেষকদের দাবি, প্রতিস্থাপনের পর শূকরের কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে। এরপর একই ব্যক্তির শরীরে শূকরের একটি সম্পূর্ণ লিভারও প্রতিস্থাপন করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, একই সঙ্গে একাধিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, শরীর নতুন অঙ্গকে গ্রহণ না করলে ‘হাইপারঅ্যাকিউট রিজেকশন’ নামে পরিচিত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অস্ত্রোপচারের পরই অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তেমন কোনও তাৎক্ষণিক জটিলতা দেখা যায়নি বলেই দাবি গবেষকদের।

জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন কী?

প্রাণীর শরীর থেকে নেওয়া অঙ্গ, টিস্যু বা কোষ মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতিকে বলা হয় জ়েনোট্রান্সপ্ল্যান্টেশন। দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, কারণ বিশ্বজুড়ে অঙ্গদাতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সাধারণত মানবদেহ অন্য প্রাণীর অঙ্গকে ‘বিদেশি বস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। তাই প্রতিস্থাপনের আগে শূকরের জিনে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়, যাতে মানবদেহ সেই অঙ্গকে সহজে গ্রহণ করতে পারে।

কেন শূকরকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শূকরের বহু অঙ্গের আকার ও গঠন মানুষের অঙ্গের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে মিল রয়েছে। পাশাপাশি শূকর দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং গবেষণাগারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পালন করা সম্ভব।

যদিও বানর বা শিম্পাঞ্জির সঙ্গে মানুষের জিনগত মিল বেশি, তবুও তাদের ব্যবহার নিয়ে নৈতিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। এছাড়া প্রাইমেট প্রাণীদের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও বেশি। সেই তুলনায় শূকরকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, শূকরের শরীরে মানুষের কিছু নির্দিষ্ট জিন প্রবেশ করিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল দাতা প্রাণীগুলিকে। যদিও প্রতিস্থাপিত অঙ্গগুলি এখনও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি, তবু এই সাফল্য ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা লক্ষ লক্ষ রোগীর জন্য এটি আশার নতুন আলো হয়ে উঠতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *