দক্ষিণবঙ্গেই ডুয়ার্সের স্বাদ!
হাতে যদি মাত্র দু’-তিন দিনের ছুটি থাকে, আর উত্তরবঙ্গ যাওয়ার সময় বা সুযোগ না থাকে, তবে মন খারাপ করবেন না। দক্ষিণবঙ্গেই রয়েছে এমন এক জায়গা, যা ডুয়ার্সের সৌন্দর্যের সঙ্গে টক্কর দিতে পারে। পাহাড়, অরণ্য, ঝর্ণা—সবই একসঙ্গে পাবেন ঝাড়গ্রাম জেলার ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম আমলাশোলে।
কলকাতা থেকে মাত্র পাঁচ-ছয় ঘণ্টার পথ। ভোরে বেরোলে দুপুরের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় প্রকৃতির কোলে। শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, এই ছবির মতো গ্রামের পরিবেশ মন ছুঁয়ে যাবে। বর্ষার মৌসুমে চারপাশের সবুজ আরও ঘন হয়ে উঠে, ঝর্ণাগুলির শব্দ যেন প্রকৃতির এক অনন্য সংগীত।
এক সময় আমলাশোল পরিচিত ছিল অনাহারের জন্য। সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে এসেছিল এই গ্রামের মর্মান্তিক ছবি। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন এই গ্রামই হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে প্রকৃতির কোলে সময় কাটানোর এক নির্জন ও নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পিচঢালা রাস্তা এসেছে, বাড়ছে হোম স্টে, জ্বলছে রাস্তাঘাটে আলো। এমনকি মোবাইল পেমেন্টও হচ্ছে অনায়াসে।
কেন যাবেন আমলাশোলে?
বর্ষায় এই গ্রামের সৌন্দর্য সত্যিই অনন্য। উঁচু-নিচু পাহাড়ে ঘেরা, পাশে ঘন জঙ্গল—যার মধ্যে শাল, পিয়াল, সেগুনের আধিপত্য। রাস্তার ধারে দেখা মিলবে ছোট ছোট পাহাড়ি ঝর্ণার। এখানকার হোম স্টে-গুলোতে বিলাসবহুল কিছু না থাকলেও, প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই রয়েছে। খাওয়াদাওয়ার মেনু সাধারণ, কিন্তু মন ভরিয়ে দেওয়ার মতো।
আমলাশোল থেকে খুব সহজেই ঘুরে নেওয়া যায় আশপাশের দর্শনীয় জায়গাগুলি। যেমন—
- কেতকী ঝর্ণা: যদিও নাম ঝর্ণা, আসলে এটি পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা একটি ছোট হ্রদ। বর্ষার সময় এর রূপ সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য।
- ঢাঙ্গিকুসুম: এটি একটি প্রকৃত ঝর্ণা। বর্ষায় গেলে পাথুরে পথ একটু পিছল হতে পারে, তাই সাবধানে চলতে হবে।
- ভৈরব মন্দির, আম ঝর্ণা: গ্রামের মাঝে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট পর্যটন স্পট, যা একদিনে ঘুরে নেওয়া যায়।
এই অঞ্চলে প্রচুর হোম স্টে রয়েছে। একাধিক জায়গায় মাটির ঘরও রয়েছে, যা রীতিমতো গ্রামীণ সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক আবহে ভরপুর। চাইলে নির্জনে দিন কাটাতে পারেন এই হোম স্টে-র আঙিনায়, কেবল গ্রামের পথ ধরে হেঁটে, আড্ডা দিয়ে কিংবা বই পড়ে।
এই সপ্তাহান্তে যদি কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে থাকে, তাহলে ১৫ অগস্টের স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে শনিবার-রবিবার মিলে তিন দিনের ছুটি একেবারে পারফেক্ট সময়। শহর ছেড়ে প্রকৃতির টানে আমলাশোল হয়ে উঠতে পারে আপনার পারফেক্ট উইকেন্ড গেটওয়ে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?