আলিপুর চিড়িয়াখানায় আসছে ভয়ংকর সৌন্দর্য!
দর্শনার্থীদের জন্য এক বড় চমক আনতে চলেছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। এবার সেখানে জায়গা করে নিতে চলেছে বিশ্বের ওজনে সবথেকে ভারী সাপ — গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলের গভীর অরণ্যের বাসিন্দা এই ভয়ঙ্কর অথচ রহস্যময় সরীসৃপকে এ বার সামনাসামনি দেখার সুযোগ পাবেন কলকাতাবাসী ও পর্যটকেরা।
রাজ্য বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, চেন্নাইয়ের বিখ্যাত ‘মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক’-এর সঙ্গে বিনিময় চুক্তির ভিত্তিতে আলিপুর চিড়িয়াখানায় আনা হচ্ছে মোট চারটি গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। এর বদলে চেন্নাইয়ে পাঠানো হচ্ছে শাঁখামুঠি সাপ এবং গিরগিটির মতো দেখতে এক ধরনের বিরল সরীসৃপ — গ্রিন ইগুয়ানা।
প্রথম দফায় দু’টি গ্রিন অ্যানাকোন্ডা আসবে শীঘ্রই। চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই বিরল সাপের জন্য একটি বিশেষ এনক্লোজ়ার তৈরি করা হয়েছে। তবে চিড়িয়াখানায় পৌঁছনোর পর সরাসরি সবার সামনে আনা হবে না তাদের। পশুপাখিদের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, প্রথমেই কিছুদিন তারা ‘কোয়ারেন্টিন’-এ থাকবে— অর্থাৎ লোকচক্ষুর আড়ালে এক বিশেষ জায়গায় রাখা হবে তাদের শরীর ও স্বভাব পরীক্ষা করার জন্য। এই সময়ের মধ্যেই তারা নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারলে তবেই তাদের স্থানান্তরিত করা হবে মূল এনক্লোজ়ারে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, এই শীতেই দর্শকরা গ্রিন অ্যানাকোন্ডাদের সামনে থেকে দেখতে পাবেন। আগামী মাস দুয়েকের মধ্যেই বাকি দু’টি অ্যানাকোন্ডাও এসে পৌঁছবে বলে জানা যাচ্ছে।
গ্রিন অ্যানাকোন্ডা নিয়ে এর আগেও আলিপুর চিড়িয়াখানায় আলোচনা চলেছিল। বহু আগেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ‘সেন্ট্রাল জ়ু অথরিটি’-র কাছে এই বিপজ্জনক প্রজাতির সাপ রাখার অনুমতি চেয়েছিল। সম্প্রতি সেই অনুমোদন হাতে এলেই শুরু হয়েছে তৎপরতা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক থেকেই চারটি ইয়েলো অ্যানাকোন্ডা (হলুদ প্রজাতির) আনা হয়েছিল আলিপুর চিড়িয়াখানায়। তারা বর্তমানে সেখানেই রয়েছে এবং সাফল্যের সঙ্গে প্রজননও করছে।
গ্রিন অ্যানাকোন্ডা প্রজাতির সাপেরা শুধু ওজনে ভারী নয়, দৈর্ঘ্যেও তারা ভয় ধরানো — অনেক সময় ২০ ফুটের কাছাকাছি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের শক্তিশালী শরীর ও শিকার ধরার ভঙ্গি দেখে একবার চোখ ফেরানো মুশকিল।
দর্শকদের মধ্যে নতুন কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি করতে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আলিপুর চিড়িয়াখানার ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে দেখা মিলবে এই প্রাকৃতিক দৈত্যদের সঙ্গে!