মৌরি-মিছরির জল কি সত্যিই পেট ঠান্ডা রাখে?
বদহজম, গ্যাস, অম্বল কিংবা পেটের অস্বস্তিতে একসময় ঘরের বড়রা নির্ভর করতেন মৌরি আর মিছরির জলেই। সকালে উঠে শিশুকে খাইয়ে দেওয়া হত এই মিষ্টি স্বাদের পানীয়, যাতে আপত্তি করার সুযোগও থাকত না! ওষুধ নয়, বরং ঘরোয়া উপায়েই শরীর ঠান্ডা রাখার এই পুরনো পন্থা আজও অনেকের কাছে রয়ে গিয়েছে বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু আদৌ কি এই জল উপকারী? পুষ্টিবিদরা কী বলছেন?
পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, মৌরি-মিছরির জল খাওয়ার পুরোনো রীতি ভুল নয় মোটেই। বরং এতে রয়েছে শরীরের জন্য বেশ কিছু উপকারিতা। যেমন, এটি শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়। গরমকালে শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে এই জল অনেকটাই কার্যকর। তবে, তিনি সতর্ক করে দিচ্ছেন—সবার পক্ষে এই পানীয় উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষত ডায়াবেটিস রোগীরা মিছরি এড়িয়ে শুধু মৌরির জল খেতে পারেন।
কী কী উপকারিতা পাওয়া যায় মৌরি-মিছরির জলে?
- পেটের যত্নে সহায়ক: মৌরিতে থাকে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান, যা হজমে সহায়তা করে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
- বিপাকক্রিয়া উন্নত করে: এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফাইবার হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের বিপাকহার বাড়ায়। বদহজম, অম্বল, গ্যাসের সমস্যায় এটি কার্যকর।
- পেটফাঁপা কমায়: মৌরিতে রয়েছে ভিটামিন সি ও আয়রন। শিশুদের ক্ষেত্রে, যারা জল খেতে চায় না, মিষ্টি স্বাদের এই পানীয় সহজেই খাওয়ানো যায়।
- শরীর ঠান্ডা রাখে ও শক্তি জোগায়: গ্রীষ্মকালে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে গেলে এই পানীয় শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি ফেরায়।
পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিকের মতে, মিছরিতে বিশেষ পুষ্টিগুণ না থাকলেও খাঁটি তালমিছরিতে সামান্য পরিমাণে পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালশিয়াম থাকে। তালমিছরির গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও চিনির তুলনায় কম, ফলে এটি তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে।
কারা খাবেন, কারা নয়?
- ডায়াবেটিস না থাকলে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে মৌরি-মিছরির জল খাওয়া যেতে পারে।
- যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের মিছরি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মৌরির জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- শিশু ও প্রবীণদের জন্য এই জল উপকারী, কারণ এটি তাড়াতাড়ি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
- যাঁদের পিসিওএস, কিডনির সমস্যা বা সুক্রোজ গ্রহণে বাধা আছে, তাঁদের শুধু মৌরির জল খাওয়ার অনুমতি মিলতে পারে, মিছরি নয়।
তবে শম্পার মতে, শুধু মৌরি-মিছরির জল খেয়ে শরীর ঠান্ডা রাখা সম্ভব নয়। একজন ব্যক্তি সারাদিন কী খাচ্ছেন, কতটা শরীরচর্চা করছেন—এই সব কিছু মিলেই শরীরের তাপমাত্রা নির্ধারিত হয়।
এককথায়, মৌরি-মিছরির জল ঘরোয়া যত্নের এক কার্যকর উপায় হতে পারে—তবে সবার জন্য নয়। তাই খাওয়ার আগে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।