বিশ্ববাণিজ্যে আমেরিকার নতুন খেলা!
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে আলাদা করে বাণিজ্যচুক্তি হবে না, তাদের থেকে নেওয়া হবে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে শুল্ক। তালিকায় রয়েছে প্রায় ২০০টি দেশ— যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। অর্থাৎ, যেসব দেশ দর কষাকষিতে রাজি না, তাদের জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে ‘বৈশ্বিক শুল্ক’-এর ছক।
গত এপ্রিলেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, সব দেশের উপর ১০ শতাংশ ন্যূনতম শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এবার সেই হার বাড়িয়ে ১৫-২০ শতাংশ করার কথা ভাবছে তাঁর প্রশাসন। সোমবার স্কটল্যান্ডের টার্নবেরিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের পরে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “আমরা গোটা বিশ্বের জন্য একটা নির্দিষ্ট শুল্ক ঠিক করে দিতে চাই। কেউ যদি মার্কিন বাজারে ব্যবসা করতে চায়, তাহলে এই হারেই শুল্ক দিতে হবে।”
চুক্তি সেরে নেওয়া দেশগুলির সুবিধা
যেসব দেশ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতায় এসেছে, তারা এই শুল্কের বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ব্রিটেন, ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনাম। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা চুক্তিতে আগামী তিন বছরে তারা আমেরিকা থেকে ৭৫ হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি কিনবে এবং আমেরিকায় ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে তারা কম শুল্ক সুবিধা পাবে।
ভারত-সহ বহু দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে
এখনও পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১ অগস্ট থেকে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর করা হবে। এই সময়সীমা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই ভারত-সহ যেসব দেশ এখনও সমঝোতায় আসেনি, তাদের ওপর নতুন হারেই শুল্ক বসবে। ইতিমধ্যেই ব্রাজিলকে একতরফা ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোজাসাপ্টা নীতি ট্রাম্পের পছন্দ
ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি বাণিজ্যের জটিল আলোচনা নয়, সরাসরি শুল্ক বসানোর পথকেই বেশি সহজ ও কার্যকর মনে করেন। তাঁর মতে, “২০০টা দেশকে নিয়ে আলাদা করে চুক্তি করা অসম্ভব। তাই একটাই নিয়ম করা হচ্ছে— কেউ যদি আমাদের বাজারে ব্যবসা করতে চায়, তাদের এই শুল্ক দিতে হবে।”
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ
এই নতুন শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। যেসব উন্নয়নশীল দেশ এখনো আমেরিকার বাজারের উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটা হবে এক নতুন চাপ। একইসঙ্গে, ট্রাম্পের এই অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে একেবারে ‘ডিল নয়, ডিউটি’-র নীতিতে বিশ্বাস করছেন। এর ফলে আগামী দিনে আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে হলে প্রস্তুত থাকতে হবে এই নতুন শর্তের জন্য।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা উচিত ভারতের? সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের যুক্তিতে কী আছে