ধনখড়ের জন্য বিদায়ী পরিকল্পনায় বিরোধীরা
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও মতবিরোধের মধ্যেও লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-পরবর্তী সময়টায় বিরোধীদের পক্ষ থেকে এক অভিনব উদ্যোগ দেখা গেল। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের সম্ভাব্য পদত্যাগের আগে বিরোধী দলগুলি তাঁর সম্মানে আয়োজন করতে চলেছে একটি ‘বিদায়ী নৈশভোজ’।
এই রাজনৈতিক সৌজন্যের ঘটনা ঘটতে চলেছে এক রীতিমতো উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। সদ্য গঠিত সপ্তদশ লোকসভায় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং শাসকদল বিজেপি-র মধ্যে সংঘাত অব্যাহত। এই আবহেই বিরোধীদের এমন একটি উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা তৈরি করেছে।
ধনখড়ের ‘বিদায়ী সম্ভাবনা’
সূত্রের খবর, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন জগদীপ ধনখড়। লোকসভার স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং সংসদের দুই কক্ষের যৌথ অধিবেশনকে সামনে রেখে একাধিক সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। এই জল্পনার মধ্যেই বিরোধীদের এই সম্মানসূচক আয়োজন যেন এক দৃষ্টান্ত।
বিরোধীদের ‘অভিনন্দন’ বার্তা
জানা গিয়েছে, এই বিদায়ী ডিনারটি হবে সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক এবং তার রাজনৈতিক অর্থও কম নয়। কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সিপিআই (এম)-সহ একাধিক বিরোধী দল এই উদ্যোগে সম্মতি জানিয়েছে। জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে মতানৈক্য থাকলেও, তাঁর পদাধিকারী ভূমিকার সম্মানার্থেই এই ডিনার— এমনই বার্তা দিয়েছেন বিরোধী নেতারা।
অতীত সম্পর্ক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
উল্লেখযোগ্য, ধনখড় রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিকবার বিরোধীদের সঙ্গে সাংবিধানিক ও নিয়মসংক্রান্ত বিতর্কে জড়িয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরেও ব্যক্তিগত স্তরে সৌজন্য বজায় রাখাই গণতান্ত্রিক পরম্পরার সৌন্দর্য— এই বার্তা দিতেই বিরোধীদের এই নৈশভোজ আয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠান কবে, কোথায়?
ডিনারের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ও স্থান এখনও চূড়ান্ত না হলেও, এটি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবন বা সংসদ ভবনের নিকটবর্তী কোনও সরকারি অতিথিশালাতেই এই অনুষ্ঠান হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
একটি শুভঙ্করের ফাঁকি?
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই বিদায়ী ডিনারের আড়ালে বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কৌশলও লুকিয়ে থাকতে পারে। সংসদের আসন্ন অধিবেশন এবং রাজ্যসভার ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ জোট কী ভূমিকা নেবে, সেটাও নির্ধারিত হতে পারে এই অনুষ্ঠানের পারিপার্শ্বিক আলোচনায়।
শেষ কথা
জগদীপ ধনখড়ের বিদায়ের আগে বিরোধী দলগুলোর এই সম্মানজনক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। যে রাজনীতিতে মতবিরোধই মুখ্য হয়ে ওঠে, সেখানে বিরোধীদের এই মানবিক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। এবার দেখার, এই সৌজন্যের নেপথ্যে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কূটনীতি কীভাবে রূপ নেয়।
মায়ের খরচ চালাতে অস্বীকৃতি! আদালতের রায়, খোরপোশ ঠিক করবেন কাল্যাণীর এসডিও