বিহারে ভোটার তালিকা বিতর্কে কমিশনের জবাব!
বিহারে ভোটার তালিকা নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তাতে এবার মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টে শপথপত্র জমা দিয়ে কমিশন জানাল, ভোটার তালিকা তৈরিতে কোনও ভাবেই জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা কোনও তালিকা তৈরি করা হয়নি, এবং এই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিহারে ভোটার তালিকা ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা দাবি করেছে, নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়কে লক্ষ করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজ্যে ভোটার তালিকার পুনর্নবীকরণকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে দায়ের করা শপথপত্রে বলা হয়েছে, “ভোটার তালিকা তৈরিতে কমিশন ধর্ম বা জাতিগত ভিত্তিতে কোনও রকম ভেদাভেদ করে না। আইনের নিরিখেই প্রতিটি নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।” কমিশনের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাম্য, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তাদের মূল নীতি।
কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, বিহারে কোনওভাবেই একাধিক বা ধর্মভিত্তিক ভোটার তালিকা তৈরি হয়নি। বরং নিয়ম মেনেই বার্ষিক হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন বহু মানুষ। যাঁরা বৈধ নথি দিয়েছেন, তাঁদের নাম তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আদালতে জমা পড়া এই শপথপত্রের মাধ্যমে কমিশন কার্যত এক রকম রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ খণ্ডন করল। কারণ, একাধিক রাজনৈতিক দল অভিযোগ তোলে যে মুসলিম বা পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর বহু মানুষের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে কমিশন জানায়, “নাগরিকদের যদি মনে হয়, তাঁদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে আইনত তাঁরা আবেদন করতে পারেন। কমিশন সেই আবেদন খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” এর ফলে স্পষ্ট, কমিশন নিজের দায়িত্ব ও প্রক্রিয়াকে প্রশ্নাতীত করে তুলতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি কবে হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে কমিশনের এই জবাবের পর পরবর্তী শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এই বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে বিহারে আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণ। ভোটার তালিকা থেকে কারা বাদ পড়ছেন, কারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন—এ সব নিয়েই তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। এই উত্তেজনার মাঝে নির্বাচন কমিশনের এই শপথপত্র জনমানসে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বিষয়টি যে এখানেই থেমে যাচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য।
সব মিলিয়ে, বিহারে ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছেই। এর মাঝেই নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, আইন ও নিয়ম মেনেই চলছে ভোটার তালিকার কাজ—জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে নয়। এখন দেখার, আদালত এই জবাব কতটা গ্রহণ করে এবং সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।
ত্বকে চাই উজ্জ্বল জেল্লা? গরমে রোজ খান এই ‘গোলাপজল মিশ্রিত পানীয়’